বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর উপহার দেওয়া একটি অ্যাসল্ট রাইফেল লোড করতে দেখা গেছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতার চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ওই দৃশ্যটি সামনে এসেছে। এটি রাশিয়া-সমর্থিত দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে—বৈঠকে কূটনীতি, কৃষি, শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সফরকালে উপহার বিনিময়ের অংশ হিসেবে কিম জং উন লুকাশেঙ্কোকে একটি তলোয়ার ও তার প্রতিকৃতি খোদাই করা বড় শাঁসের ফুলদানি দেন। অন্যদিকে বেলারুশে তৈরি একটি অ্যাসল্ট রাইফেল কিমকে উপহার দেন লুকাশেঙ্কো।
বেলারুশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে লুকাশেঙ্কো মজার ছলে বলেন, ‘শত্রু এলে কিমের এই অস্ত্রটির প্রয়োজন হতে পারে।’ বৈঠকের পাশাপাশি কিম জং উন তাঁর অতিথিকে আইস-স্কেটিং প্রদর্শনী ও আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানান এবং সফর শেষে নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে বিদায় জানান।
এই সফরটি ছিল উত্তর কোরিয়ায় বেলারুশের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন কিম। দুই দিনের এই সফরে লুকাশেঙ্কো যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা চাপ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার মিত্র এই দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন এক সমন্বিত অবস্থান তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বেলারুশ রাশিয়াকে সহায়তা করছে এবং উত্তর কোরিয়া অস্ত্র ও সেনা দিয়ে সমর্থন জোগাচ্ছে—যা পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এই দেশগুলো এখন রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে একধরনের ‘অ্যান্টি-ওয়েস্ট’ জোট গড়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা জানান, এই বৈঠক কিমের বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা ও পশ্চিমবিরোধী জোট গঠনের কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।