মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে থাইল্যান্ড। সরকারি কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ করা এবং লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল একাধিক জ্বালানি সাশ্রয়মূলক উদ্যোগ ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে দৈনিক ব্যাংকক পোস্ট।
ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত করা, অফিসে এয়ার কন্ডিশনের তাপমাত্রা ২৬-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা, নেকটাই ছাড়া ছোট হাতা শার্ট পরা, অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা এবং ফটোকপি মেশিনের ব্যবহার কমানো। পাশাপাশি অনলাইন বৈঠক বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশও একই ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাকিস্তানে জ্বালানি ব্যয় কমাতে স্কুল বন্ধ রাখা এবং দূর থেকে কাজের ব্যবস্থা চালুর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। তেহরানের দাবি, ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দেশটির একটি স্কুলের বহু ছাত্রীসহ সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন।
এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে। ইসরায়েল ছাড়া অন্য দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে।
এদিকে মার্চের শুরু থেকেই ইরান কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের প্রতিদিনের প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই সরু নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয় এবং বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এখান দিয়ে যায়। তাই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা এখন তীব্র হয়ে উঠেছে।