মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে এখনো ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংগঠন। বহুজাতিক অভিযানের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে উদ্ধারের এক বছর পার হলেও এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল সোমবার (২২ জুন) মানব পাচারের শিকারদের সহায়তাকারী সংগঠন সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান ট্রাফিকিং ভিকটিম অ্যাসিস্ট্যান্স (সিএসএনএইচটিভি) থাই পুলিশের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, আটকে থাকা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিদেশি নাগরিক এবং তাঁরা মিয়ানমারের একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত চারটি স্থানে বন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, আটকে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন চীনা নাগরিক। এ ছাড়া প্রায় ২০০ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ২০ জন থাই এবং ফিলিপাইন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, রাশিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা ও জিম্বাবুয়ের নাগরিকও রয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার, কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পরিচালিত এসব প্রতারণা কেন্দ্র থেকে অবৈধ অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এই প্রতারণার শিকার হন।
অনেক ক্ষেত্রে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশি নাগরিকদের এসব কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁরা অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থেকে জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য হন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব স্থানে শ্রমিকেরা নির্যাতন এবং শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হন।
গত বছর থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী প্রতারণা কেন্দ্রগুলো ভেঙে দিতে আঞ্চলিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দেয়। ওই অভিযানে মিয়ানমারের মিয়াওয়াদি এলাকার বিস্তীর্ণ প্রতারণা কেন্দ্র থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে এরপরও বড় পরিসরে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
সিএসএনএইচটিভির চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ডেমোক্রেটিক কারেন বৌদ্ধ আর্মি (ডিকেবিএ) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি প্রতারণা কমপাউন্ডে বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগী বন্দী রয়েছেন। সংগঠনটির ভাষ্য, এসব কেন্দ্রের অনেকগুলো এখনো ধ্বংস করা হয়নি কিংবা সেখানে আটকে থাকা সবাইকে উদ্ধারের জন্য কার্যকর অভিযান চালানো হয়নি। এই কারণেই অপরাধী চক্রগুলো এখনো অনলাইন জালিয়াতি ও মানব পাচারের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভুক্তভোগীদের ওপর পড়ছে।
এ বিষয়ে ডিকেবিএর দুই কর্মকর্তা ও মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের একজন মুখপাত্র রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেননি। তবে মিয়ানমার সরকার এর আগে প্রকাশ্যে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা ঘোষণা করেছিল।