দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর একটি অভিজাত বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের মডেলদের মতো হাঁটা ও পোজ দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনীও স্বীকার করেছে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট ইউনিটের বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানায়, গত ২৯ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ারফেয়ার কমান্ডের অধীন ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেডের ঘাঁটির একটি জিমনেসিয়ামে ‘কে-ওয়াকিং পারফরম্যান্স মিলিটারি ফেস্টিভ্যাল’ নামে ওই আয়োজন করা হয়।
সম্প্রচারমাধ্যম চোসুন টিভির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ছদ্মবেশী সামরিক পোশাক ও হাই হিল পরা কয়েকজন নারী মডেল সেনাসদস্যদের ক্যাটওয়াকের কৌশল শেখাচ্ছেন। তাঁরা কীভাবে এক পায়ের সামনে অন্য পা রেখে হাঁটতে হয়, শরীর ঘোরাতে হয় ও হাত বাঁকিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দাঁড়াতে হয়, তা প্রদর্শন করেন। পরে পুরুষ সেনাসদস্যরাও তাঁদের অনুসরণ করে হাঁটা ও পোজ দেওয়ার অনুশীলন করেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
এক্স মাধ্যমে একজন লিখেছেন, বিশেষ অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একটি বাহিনীর প্রশিক্ষণে এ ধরনের আয়োজনের উদ্দেশ্য বোঝা কঠিন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতা পার্ক চুং-কোয়নও এ ঘটনার সমালোচনা করেছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া যখন স্থলমাইন উসকানি এবং ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের রকেট উৎক্ষেপণ করছে, তখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিশেষ বাহিনীর সেনাদের হাঁটাচলা শেখাতে ফ্যাশন মডেল নিয়ে আসছে।
পার্ক চুং-কোয়ন আরও বলেন, সামরিক বাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডের দায় সাধারণ সেনাসদস্যদের ওপর চাপানো উচিত নয়, বরং এ ঘটনায় অভিজাত সেনাদের যে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে, তার দায় সেনাবাহিনীকেই নিতে হবে।
প্রথমে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, প্রতি ছয় মাসে একবার আয়োজিত ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। সেনাদের শারীরিক ভঙ্গি, হাঁটাচলা ও সামরিক শৃঙ্খলাবোধ উন্নত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
তবে সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে যাচাই না করেই আয়োজনটি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বাহিনীর বৈশিষ্ট্য, সেনাসদস্যদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের আগে সেনাসদস্যদের মতামত নেওয়া ও প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে পর্যালোচনা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।