তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তাঁর মতে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা হবে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে, ভীতি বা প্রতিরোধমূলক কৌশলের ওপর নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো একটি শক্তির আধিপত্য ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমেই টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
গতকাল বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হলো অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোও দায়িত্বশীলভাবে একত্র হতে পারে। ফিদান বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন কীভাবে শূন্য থেকে শুরু করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে, সেটা দেখুন। আমরা কেন পারব না?’
সৌদি আরব–পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং তাতে তুরস্কের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফিদান বলেন, ‘এই অঞ্চলের যেকোনো চুক্তি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া উচিত।’ তিনি যোগ করেন, এসব নীতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে। ফিদান বলেন, ‘কোনো আধিপত্য নয়—না তুরস্কের আধিপত্য, না আরবদের আধিপত্য, না ফারসি আধিপত্য, না অন্য কারও আধিপত্য।’
সিরিয়া প্রসঙ্গে ফিদান বলেন, দেশটিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে তুরস্ক সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে এবং এর ফলে মার্কিন বাহিনী সিরিয়া থেকে দায়েশ বন্দীদের ইরাকে স্থানান্তর করতে পারছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, এবং সবাইকে এতে সহায়তা করা উচিত।’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে তুরস্ক এই প্রক্রিয়া সহজ করতে কাজ করছে এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়া ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফিদান বলেন, সিরিয়ার সরকার ও ওয়াইপিজি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে যে বোঝাপড়ায় পৌঁছানো হয়েছে, তা নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তুরস্ক এমন যেকোনো চুক্তিকে সমর্থন করবে, যা স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে এবং তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করে।
তিনি বলেন, ‘পক্ষগুলো যে বোঝাপড়াতেই পৌঁছাক না কেন, যদি তারা কিছু মৌলিক নীতিতে একমত হয়, তাহলে আমরা সেটিকে সমর্থন করি।’ ফিদান আরও বলেন, আঙ্কারার নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগ ও ‘রেড লাইন’ থাকা সত্ত্বেও, ‘দামেস্ক সরকার যখন ওয়াইপিজির সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যায়, তখন সাধারণত এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।’