হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে মামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা বছরের পর বছর গোপনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়েছে। আর সে ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত অর্থ পরবর্তী সময়ে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র তৈরিতে ব্যয় করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে এই দেওয়ানি মামলাটি করা হয়। মামলার বাদীপক্ষ হিসেবে রয়েছেন প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনাসদস্য এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বিএটি উত্তর কোরিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সিগারেট উৎপাদন শুরু করে। ২০০৫ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র যখন উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করছিল, তখনো ওই কার্যক্রম নীরবে চলছিল। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তারা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গোপনে ব্যবসা চালিয়ে যায়।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যমতে, বিএটির এই গোপন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়েছে, যা উত্তর কোরিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়েছে।

মামলার বাদীরা দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়া এই তামাক ব্যবসার লভ্যাংশ ব্যবহার করে ইরান ও হিজবুল্লাহর জন্য উন্নত অস্ত্র তৈরি করেছে। এই অস্ত্রগুলো ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি ইরাকের আল-আসাদ ও এরবিল বিমানঘাঁটিতে এবং ২০২২ সালে কুর্দিস্তানে মার্কিন সেনাদের ওপর চালানো হামলায় ব্যবহৃত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বিএটি এবং তাদের সিঙ্গাপুরভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএটি মার্কেটিং সিঙ্গাপুর (বিএটিএমএস) জালিয়াতি ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করেছিল। ওই সময় মার্কিন সরকারকে ৬২৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছিল কোম্পানিটি। তৎকালীন প্রধান নির্বাহী জ্যাক বোলেস এ ঘটনার দুঃখপ্রকাশ করে বলেছিলেন, কোম্পানিটি তার উচ্চমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই নতুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়ান স্পারাসিনো বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ায় বিএটির গোপন কার্যক্রম এবং মার্কিন সেনাদের ওপর চালানো ভয়াবহ হামলার অস্ত্রের মধ্যে একটি স্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে।’

আরেক আইনজীবী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি রাজ পারেখ বলেন, ‘সহিংসতায় সৃষ্ট ভয়াবহ ক্ষতি সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না। এই মামলা আমেরিকান সেনাসদস্য, বেসামরিক মানুষ ও তাঁদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা।’

বাদীদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ২০০ জন আহত সেনাসদস্য, যাঁদের অনেকেই মস্তিষ্কে আঘাত ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজ-অর্ডারে ভুগছেন। আছেন ২০২২ সালের হামলায় নিহত এক ব্যক্তির স্ত্রী ও তাঁর সম্পত্তির আইনগত প্রতিনিধিও।

ভুক্তভোগীরা একটি ফেডারেল আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। এর মাধ্যমে কেবল সরাসরি আক্রমণকারীকেই নয়; বরং আক্রমণকারীকে সহায়তা করা তৃতীয় পক্ষকেও বিচারের আওতায় আনা যাবে।

বিএটি এখনো নতুন এই দেওয়ানি মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে আদালতে এই মামলা টিকবে কি না, তা নির্ভর করবে কোম্পানির অর্থ সরাসরি সন্ত্রাসী হামলা সফল করতে ভূমিকা রেখেছে—এমন যোগসূত্র কতটা প্রমাণ করা যায় তার ওপর।

এপস্টেইন কাণ্ড: ৩০ লাখের বেশি নতুন নথি প্রকাশ, সামনে এল হাজারো ছবি ও ভিডিও

জুলাইয়ের মধ্যেই ফতুর হয়ে যাবে জাতিসংঘ—মহাসচিবের সতর্কবার্তা

গাজায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য মেনে নিল ইসরায়েল

প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা মারতে চায় ইউক্রেন

বুলেটের বদলে বই—সিরিয়ার শিশুদের মুখে হাসি ফেরাচ্ছে ‘সাংস্কৃতিক বাস’

মার্কিন হামলা হলে এবার ইরানের প্রতিক্রিয়া কেন ভিন্ন হতে পারে

ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নারীর ‘মৌলিক অধিকার’—ভারতে ঐতিহাসিক রায়

সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বিদ্রোহী কুর্দিরা, চুক্তি স্বাক্ষর

মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কানাডার আলবার্টা প্রদেশের স্বাধীনতাকামীদের বৈঠক

ইরানে কমান্ডো অভিযানের কথাও ভাবছেন ট্রাম্প