শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে খাবারের গুরুত্বের বিষয়টি সবার জানা। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও খাবারের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে।
গবেষণায় এমন কিছু খাবারের কথা বলা হয়েছে, যা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। এর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
খাবার মানসিক স্বাস্থ্য যেভাবে প্রভাবিত করে
পেট বা অন্ত্রের সঙ্গে মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক আছে। ফলে আমরা যে খাবার খাই, তা মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে। আমাদের অন্ত্রে অনেক ছোট ছোট জীবাণু থাকে, যা ঘুম, ক্ষুধা, মেজাজ, অনুভূতি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এ কারণে অন্ত্রকে ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ বলা হয়। খাবার যেসব মানসিক বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে, সেগুলো হলো—
বিষণ্নতা
গবেষণাটি জানিয়েছে, ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য ও ডাল বেশি খাওয়া এবং মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস কম খাওয়া বিষণ্নতার লক্ষণ। তবে ফল, শাকসবজি, মাছ, বাদাম, জলপাই তেল, দুধজাত খাবার বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
মানসিক চাপ ও রাগ নিয়ন্ত্রণ
অ্যালকোহল, ক্যাফেইন এবং অতিরিক্ত চিনি মানসিক চাপ ও রাগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া গবেষণাটি থেকে জানা যায়, রাগের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ তেলজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া এবং ফলমূল কম খাওয়া। যদি আপনি লক্ষ করেন, আপনার মানসিক চাপ কিংবা রাগের মাত্রা বেড়ে গেছে। তবে অ্যালকোহল, ক্যাফেইন এবং অতিরিক্ত চিনি খাওয়া কমিয়ে দেখতে পারেন। এর সঙ্গে আঁশসমৃদ্ধ ফলমূল এবং সবজি খাওয়া বাড়াতে হবে।
মানসিক সুস্থতায় পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস
মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায় হচ্ছে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। এসব খাবার উপকারী বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানে পূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ফলমূল ও সবজি বেশি খাওয়ার সঙ্গে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমা এবং জীবনের সন্তুষ্টি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এর জন্য খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন না করে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
নিয়মিত খাবার খান: খালি পেটে বেশি সময় না থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে; যা ক্লান্তি, বদমেজাজের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।
নিয়মিত পানি পান করুন: হালকা ডিহাইড্রেশনও আপনার মেজাজ, শক্তির স্তর এবং মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।
স্বাস্থ্যকর চর্বি খাওয়ার চেষ্টা করুন: আপনার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর চর্বির প্রয়োজন। অলিভ অয়েল, বাদাম, তৈলাক্ত মাছ, অ্যাভোকাডো, দুধ, ডিম ইত্যাদিতে স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়।
খাবারের সঙ্গে প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করুন: প্রোটিনে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই খাবারের সঙ্গে কিছু প্রোটিন রাখা ভালো।
ক্যাফেইন সম্পর্কে সচেতন থাকুন: ক্যাফেইন আপনার ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে কারও কারও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে। আবার ক্যাফেইন কারও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: হেলথ লাইন