দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট দূর করতে তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়, বরং বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান তৈরি করাই প্রকৃত লক্ষ্য। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জুবাইদা বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার, কোনো বিশেষ সুবিধা নয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় বর্তমানে মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সংকটে ফেলছে। এই ব্যয় কমাতে ও হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে আমাদের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিতে হবে।’
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও অসংক্রামক রোগের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের জন্য আমরা একটি ভালো বাজেট বরাদ্দ করেছি। তবে শুধু বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। এই খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জোরালো সমন্বয় প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বক্তব্য দেন। বক্তারা স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়নে সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তার আশ্বাস দেন।