ভারতীয় উপমহাদেশে নারীর প্রধান এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো শাড়ি। কিন্তু এই সুন্দর পোশাকের নিচে পরা পেটিকোট বা সায়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যা ‘শাড়ি ক্যানসার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এক ভারতীয় নারীর কোমরে ছয় মাস ধরে সেরে না ওঠা একটি ক্ষত পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা এই বিরল ক্যানসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।
এই আবিষ্কারের পর এখন কোমরে পেটিকোটের ফিতা বাঁধার জায়গায় দীর্ঘস্থায়ী কালচে দাগ, ফুসকুড়ি কিংবা ঘা দেখা দিলে তাকে সাধারণ ডার্মাটোসিস ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হবে চরম বোকামি। সময়ের সঠিক চিকিৎসা এবং সচেতনতাই একমাত্র পারে এই বিরল ‘শাড়ি ক্যানসার’ থেকে মুক্তি দিতে।
সমস্যার শুরু যেখানে
পরনের শাড়ি যাতে খুলে না যায়, তাই বেশির ভাগ নারী পেটিকোটের ফিতা কোমরে অত্যন্ত শক্ত করে বেঁধে তাতে শাড়ি গুঁজে দেন। এ কারণে প্রতিদিন কোমরের ত্বকে অনবরত ঘর্ষণ হতে থাকে। নিয়মিত এই ঘর্ষণ হওয়ার ফলে সেখানকার ত্বকে কালচে দাগ পড়ে
এবং চামড়া ফুলে যেতে থাকে। নারীরা একে স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে করেন এবং কোনো গুরুত্ব দেন না। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এটি আসলে ‘ওয়েস্ট ডার্মাটোসিস’-এর লক্ষণ।
ঘর্ষণ থেকে ক্যানসারের পথ
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ বছর ধরে শক্ত করে ফিতা বাঁধার কারণে ত্বকে স্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়। সেখান থেকে শরীরের সেই অংশ ধীরে ধীরে ‘মার্জোলিন আলসার’-এ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম এবং ধুলাবালু এই ক্ষতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোষের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন একপর্যায়ে ম্যালিগন্যান্ট কিংবা ক্যানসারের ক্ষতে রূপান্তরিত হয়।
শাড়ির কুঁচি ও তলপেটের চাপ
শুধুই পেটিকোট জোরে বাঁধা নয়, শাড়ির কুঁচির ভারও জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ, ভারী শাড়ির কুঁচি সরাসরি তলপেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বছরের পর বছর ‘অ্যাবডোমিনাল এরিয়া’ বা তলপেটের এই নির্দিষ্ট অংশে সৃষ্ট চাপ কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ক্যানসারের দিকে ঠেলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
গবেষণার সতর্কতা
শাড়ি ক্যানসার একটি বিশেষ সতর্কবার্তা। গবেষকদের মতে, যেকোনো চর্মরোগ বা ক্ষত প্রতিনিয়ত ঘর্ষণ কিংবা অস্বস্তিকর অবস্থায় থাকলে সেখানে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ট্রমা অথবা ঘর্ষণের ফলে এপিথেলিয়াল টিস্যুর স্থানচ্যুতি এই রোগের অন্যতম কারণ হতে পারে।