হোম > স্বাস্থ্য

ইবোলা কী, কীভাবে ছড়ায়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বিগত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন। ছবি: এএফপি

ইবোলা অত্যন্ত বিরল কিন্তু মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী একটি রোগ। এটি ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। মূলত তিন প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস মানুষের মধ্যে প্রাদুর্ভাব ঘটায়। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব ‘বুন্দিবুগিও’ নামক একটি সুনির্দিষ্ট প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হচ্ছে।

ইবোলা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়

প্রাণী থেকে মানুষে—ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মূলত শুরু হয় বন্য প্রাণীর মাধ্যমে। যখন কোনো মানুষ আক্রান্ত প্রাণীর (যেমন—বাদুড়) সংস্পর্শে আসে, তখন প্রথম সংক্রমণটি ঘটে।

মানুষ থেকে মানুষে—একবার কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হলে, তাঁর শরীর থেকে অন্য মানুষের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, লালা বা অন্য কোনো শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে অন্যরাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণ ও উপসর্গ

সংক্রমিত হওয়ার পর সাধারণত ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে (ইনকিউবেশন পিরিয়ড) শরীরে ইবোলার লক্ষণ দেখা দেয়। লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশ পায়।

প্রাথমিক লক্ষণ—হঠাৎ করেই ফ্লু বা সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন—তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা এবং চরম ক্লান্তি বা অবসাদ।

পরবর্তী লক্ষণ—রোগটি জটিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত রোগীর বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো (যেমন—লিভার বা কিডনি) কাজ করা বন্ধ করে দিতে থাকে।

চূড়ান্ত পর্যায়—কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে এবং বাইরে (নাক, মুখ দিয়ে) মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।

এটি কতটা প্রাণঘাতী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে বর্তমানে কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের আগের প্রাদুর্ভাবগুলোতে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ছিল।

কোনো প্রতিষেধক বা টিকা আছে কি

ইবোলার সবচেয়ে সাধারণ প্রজাতি ‘জায়ার’-এর জন্য কার্যকরী ভ্যাকসিন বা টিকা থাকলেও, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই।

কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবের ইতিহাস ও ঝুঁকি

ইবোলা ভাইরাস প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৭৬ সালে, বর্তমান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো)। কঙ্গোতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। ডিআর কঙ্গো এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জন সন্দেহভাজন রোগী এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে বিগত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন।

কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবটি ঘটেছিল ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। তখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। গত বছরও দেশটির একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইবোলায় ৪৫ জন মারা যান।

বর্তমান উদ্বেগের কারণ

আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি রুয়ামপারা ও বুনিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চল এবং মংওয়ালুর খনি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় ঝুঁকি অনেক বেশি। খনি ও বাণিজ্যের কারণে ওই অঞ্চলের মানুষের উচ্চ ভৌগোলিক গতিশীলতার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু

কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

জনস্বাস্থ্য: মৃত্যুর গতিতে করোনা হেরেছে হামের কাছে

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, দুজনেই সিলেটে

গ্রীষ্ম ও বর্ষার সন্ধিক্ষণে জীবাণুর সংক্রমণে যা করতে হবে

গর্ভকালে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে

নারীদের মানসিক সুস্থতায় জরুরি করণীয়

সুস্থ থাকতে কতটুকু তরমুজ খাবেন

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন ১০ উপায়ে