দেশে ডেঙ্গুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের উপসর্গে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৮ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৪ জন। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২।
আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে পরীক্ষায় ৫১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩২৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের, দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫০১ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১৯৯ জন, চট্টগ্রামে ১০৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৭, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ও মৃত্যুর বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে কোন বয়সী মানুষ বা শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং কোন বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি, তা এসব পরিসংখ্যান থেকে নির্দিষ্টভাবে বোঝা যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম যেকোনো বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।