হোম > স্বাস্থ্য

মায়ের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শিশুর শরীরে পৌঁছাচ্ছে না: হাম নিয়ে আলোচনায় বক্তারা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

হাম নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন শিশু ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ বয়সে হামে আক্রান্ত হওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও সম্প্রতি এমন ঘটনা বাড়ছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মায়ের শরীর থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শিশুর মধ্যে যথাযথভাবে সঞ্চারিত হচ্ছে না।

আজ রোববার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হাম রোগের প্রাদুর্ভাব, পুনরুত্থান প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভ্যাকসিনেশন, আইসোলেশন, কার্যকর রোগ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায় এবং অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ দেরিতে প্রকাশ পায়। ফলে অজান্তেই রোগটি বিস্তার লাভ করে।

ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, টিকাদান কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও অনেক ক্ষেত্রে এর কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি কোথাও কোথাও টিকা না দিয়েও কাগজে-কলমে তথ্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় বিষয়গুলো গভীরভাবে যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এফ এম সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ছয় মাসের আগেই শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যা আগে স্বাভাবিক ছিল না। এটি মায়ের শরীর থেকে পাওয়া প্রতিরোধক্ষমতা পর্যাপ্তভাবে শিশুর শরীরে না পৌঁছানোর ইঙ্গিত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে গর্ভবতী মায়েদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বুস্টার টিকার বিষয়টি গবেষণার মাধ্যমে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে হামের সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। তাঁরা দ্রুত টিকাদান কভারেজ বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) কর্মকর্তা ডা. লোবাবা শারমিন বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের ডায়রিয়া হলে সাধারণ নিয়মে চিকিৎসা দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ওআরএস ব্যবহার করা যাবে; তবে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করানো জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, জ্বর হলেই হাম ধরে নিয়ে রোগীকে আলাদা করার প্রয়োজন নেই। তবে চার দিন পর র‍্যাশ দেখা দিলে আইসোলেশন ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

আলোচনা সভায় বিএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাইফ উল্লাহ মুন্সী, নবজাতক বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবেদ হোসেন মোল্লা, ডা. তাসনিম জারা, অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন, অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক, অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, ডা. বিনোদ বড়ুয়া, ডা. চিরঞ্জিত দাস, ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী, ডা. লোবাবা শারমিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

বাংলাদেশিদের অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা দেবে থাইল্যান্ডের মেডপার্ক হসপিটাল

সমন্বিত উদ্যোগে হামসহ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকার দুই সিটিতে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু, চলবে ১১ মে পর্যন্ত

২০ তারিখ থেকে সারা দেশে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকার দুই সিটিসহ ৪ সিটিতে রোববার থেকে হামের টিকা শুরু

হাম ও উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮০: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ঘাড়ের ফোলায় এফএনএসি টেস্ট দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সমাধান

হামের প্রাদুর্ভাব: জনস্বাস্থ্যঝুঁকি এবং আমাদের করণীয়

লিভার সুস্থ রাখতে এসব অভ্যাস বাদ দিন