বর্তমানে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের মোবাইল ফোন কিংবা ট্যাব ব্যবহারে আসক্ত হওয়া। সন্তানের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ আনার ক্ষেত্রে মা-বাবাকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে এক সাম্প্রতিক জরিপ।
ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে, বিশ্বে প্রতি তিনজন মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন শিশু। জার্নাল অব ইয়ুথ স্টাডিজ জানায়, আমেরিকান শিশু-কিশোরদের ৯২ শতাংশই প্রতিদিন অনলাইনে যায়।
প্রতিদিন ১ লাখ ৭৫ হাজার, অর্থাৎ প্রতি আধা সেকেন্ডে একজন শিশু নতুন করে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহারকারীর ২৫ শতাংশের বয়সই ১০ বছরের কম এবং ফেসবুকসহ সব ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ার ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারীর বয়সই ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।
- দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিশুকে স্মার্ট ডিভাইসের সামনে থাকার অভ্যাস করুন। ওই সময়ের বাইরে তাদের স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখুন।
- শিশু যদি অনলাইনে ক্লাস করে, তাহলে ইন্টারনেট-সংযোগ দিয়ে সে কী করছে, সেটি খেয়াল রাখতে হবে।
- স্মার্টফোন থেকে আপত্তিকর ওয়েবসাইটগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
- আপনি যদি খুব বেশি প্রযুক্তিতে আসক্ত হন, তাহলে আপনার সন্তানও সেটিই করবে। তাই নিজেকে এই আসক্তি থেকে দূরে রাখুন।
- শিশুদের প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাওয়া খুব জরুরি। শিশুকে নিয়ে বাগানে বা পার্কে যান।
- শিশুদের ঘরের কাজে ব্যস্ত রাখতে পারেন, বিশেষ করে মায়েরা এ কাজটি করতে পারেন।
- অনলাইন বা ইন্টারনেটে শিশুরা কী কী দেখতে পারবে, সে বিষয় সম্পর্কে তাদের বোঝাতে হবে।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ভিডিও পোস্ট করার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করুন।
- পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে কোথাও ভ্রমণ, বই পড়া, খেলাধুলাসহ আরও বিভিন্ন সামাজিক কাজ শুরু করুন। এতে তারা আনন্দ পাবে।
- শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাই শিশুর আচরণে পরিবর্তন আনার জন্য অভিভাবক হিসেবে সবার আগে আপনার আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে।
- আপনার সন্তানের যদি মোবাইল ফোনে আসক্তি অতিরিক্ত মাত্রায় থাকে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব তাকে অভিজ্ঞ সাইকো-থেরাপিস্ট, কাউন্সেলর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
লেখক: সাইকোলজিস্ট, ট্রেইনার