হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

নির্বাচনে ২১ শতাংশ জাল ভোট পড়ার দাবিটি সঠিক নয়

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক  

টিআইবির প্রতিবেদন দাবিতে ফেসবুক পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

‘নির্বাচনে জাল ভোট পড়েছে ২১.৪ শতাংশ: টিআইবি’ দাবিতে নাগরিক টিভির একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিক টিভি-র এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটের ২১ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এমন দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবির বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৫.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারকে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। জাল ভোট দেওয়ার হার ২১.৪ শতাংশ এবং বিধি লঙ্ঘন, আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ২১.৪ শতাংশ। এ ছাড়া ভোট গ্রহণের আগেই ব্যালটে সিল মারা, বুথ দখল এবং প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ ১৪.৩ শতাংশ করে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কিছু অনিয়মের বিষয়ও টিআইবির বরাতে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে ( আর্কাইভ ), এখানে

( আর্কাইভ ) এবং এখানে ( আর্কাইভ )

নাগরিক টিভির ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত এবং হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু হেনা রাজ্জাকীসহ অনেকে।

অনুসন্ধানে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন ৯৯ শতাংশ প্রার্থী: টিআইবি’ শিরোনামে দৈনিক আজকের পত্রিকার একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই নির্বাচনী আচরণবিধির কোনো না কোনোটি লঙ্ঘন করেছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে ৫৮ ধরনের আচরণবিধি চিহ্নিত করা হয়েছে, যার প্রায় সব ক্ষেত্রেই লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১ শতাংশ আসনে কোথাও কোথাও জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। বিষয়টিকে উল্লেখযোগ্য জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তবে কতটা ঘটনা ঘটেছে সেটি আমরা প্রতিবেদনে বলছি না।’

অর্থাৎ প্রতিবেদনের কোথাও ‘২১ শতাংশ আসনে জাল ভোট’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে প্রকাশের কিছুক্ষণ পর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভিও তাদের শিরোনাম পরিবর্তন করেছে। যদিও প্রতিবেদনের মূল অংশে তথ্যটি আগের মতোই রয়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ওয়েবসাইটে ‘নির্বাচনে জাল ভোট পড়া নিয়ে টিআইবির নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকার আহ্বান’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞপ্তি খুঁজে পাওয়া যায়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি। ছবি: স্ক্রিনশট

টিআইবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট পড়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-কে উদ্ধৃত করে ভুল ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যকে ভুলভাবে প্রচার ও প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে অতিদ্রুত এ ভুল সংশোধনসহ বিভ্রান্তি প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টিআইবির মাঠপর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জালভোট প্রদানের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ তথ্যকে পুরো নির্বাচনে ২১.৪ শতাংশ জালভোট পড়েছে— এমনভাবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ ভুল, ভিত্তিহীন ও অমূলক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যেসব গণমাধ্যম ইতিমধ্যে এই তথ্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেছে, তাদের যথাযথ সংশোধনী প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। অন্যথায়, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সুতরাং, টিআইবির বরাতে জাল ভোটের তথ্য সংবলিত দাবিটি সঠিক নয়। মূলত, টিআইবি তথ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপনের কারণেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ভোট দেওয়ার ভিডিওটি পুরোনো

পিস্তল ঠেকিয়ে হিন্দু তরুণীকে অপহরণের অভিযোগ— ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে যা জানা গেল

প্রধানমন্ত্রী হলে পরীক্ষা তুলে দেবেন তারেক রহমান— দাবিতে ছড়ানো ভিডিওতে ভিন্ন ব্যক্তি

খাগড়াছড়িতে এক নারীকে গুলি করে হত্যা দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি সাজানো

গণভোট নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারীর নামে মিথ্যা প্রচার

জামায়াতের নির্বাচনী গানে শাকিব খান— ভিডিওটি এআই নির্মিত

‘নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি’ দাবিতে মির্জা ফখরুলের নামে পুরোনো ভিডিও প্রচার

‘ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে’, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এমন কথা বলেননি

পাকিস্তানি জেনারেলকে ‘ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলযুক্ত বাংলাদেশের পতাকা উপহারে’র দাবি নিয়ে যা বলল সিএ ফ্যাক্ট চেক

গোপালগঞ্জ সহিংসতা নিয়ে অসম্পর্কিত ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে আ. লীগ: প্রেস উইং