বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয়, ‘জামালপুরে রহিম মিয়ার জমি শুকাচ্ছে, ঢাকায় এসিতে বসে থাকা বিএনপির কেউ টের পাচ্ছে না।’
পোস্টটিতে আরও বলা হয়, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল নেই, কৃষকের সেচপাম্প বন্ধ, ট্রলার চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বোরোখেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।
গতকাল ৩ মে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শেয়ার করা ওই পোস্টে আজ বেলা ১টা পর্যন্ত ১১ হাজার রিঅ্যাকশন, ২৭৮ কমেন্ট ও ১ হাজার ৩০০ শেয়ার রয়েছে।
পোস্টটিতে ব্যবহৃত ছবিটি দেখে অনেক ব্যবহারকারী এটিকে জামালপুরের বর্তমান পরিস্থিতির ছবি হিসেবে ধরে নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে প্রথমে পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছবিটি সাম্প্রতিক বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। বরং ছবিটি ২০১২ সালে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দেওয়া খরার সময় তোলা। একাধিক আন্তর্জাতিক (১ , ২ ) সংবাদমাধ্যমে ছবিটি ভারতের জম্মু অঞ্চলের একটি কৃষিজমির ছবি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, খরায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে এক কৃষক বসে আছেন।
ছবিটি ভিন্ন দেশের ও পুরোনো হলেও পোস্টে উল্লেখ করা জ্বালানি সংকটের দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে গণমাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হয়।
অনুসন্ধানে ২৮ এপ্রিল ‘ইসলামপুরে এক সপ্তাহ ধরে নেই জ্বালানি তেল’ শিরোনামে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে ইসলামপুরের কৃষক রহিম মিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ডিজেলসংকটের কারণে বোরো আবাদি জমিতে সময়মতো সেচ দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফলন কমে যাবে এবং খেত ফেটে যাচ্ছে।’
এ ছাড়া একই প্রতিবেদনে ইসলামপুর উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশন ঘিরে দীর্ঘ লাইনের কথাও উল্লেখ করা হয়। স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়, তেল সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় কৃষক, পরিবহন চালক ও সাধারণ ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে আজকের পত্রিকার উসলামপুর প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্যাক্টচেক টিম। তিনি জানান, ঝরনা ফিলিং স্টেশন নামে ইসলামপুর উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশনটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ২৯ এপ্রিল স্টেশনটি চালু ছিল বলেও জানান তিনি।
তবে ২৮ এপ্রিলের ইসলামপুরসহ সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। আর সেচের অভাবে ধানের জমি ফেটে চৌচির হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে গতকালের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, খেতের জমি ফেটে চৌচির।
অর্থাৎ, ভাইরাল পোস্টে রহিম মিয়া, ইসলামপুর উপজেলায় জ্বালানি সংকট, একমাত্র ফিলিং স্টেশন এবং সেচে সমস্যার তথ্যের আংশিক সত্যতা থাকলেও পোস্টটিতে ব্যবহৃত ছবিটি ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এটি ভারতের জম্মুতে ২০১২ সালের খরার সময় তোলা ছবি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত পোস্টের তথ্য পুরোনো, ছবিটি ভারতের এবং ২০১২ সালের খরার ঘটনার।