২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ভারতের একটি মসজিদে ট্রাম্পেট বাজিয়ে নামাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
এই দাবিতে ভাইরাল কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে , এখানে, এখানে , এখানে এবং এখানে ।
৯ মে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবের ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এটি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ইনকিলাবের পেজে শেয়ার করা ভিডিওটি মাত্র এক দিনে প্রায় ৪৭ লাখবার দেখা হয়েছে এবং ৩০ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার রিঅ্যাকশন ও ১৮ হাজার ৮০০ কমেন্ট রয়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, এটি ভারতের কোনো এক মসজিদের দৃশ্য।
‘Sesh tv’ নামক আরও একটি পেজ থেকে দাবি করা হয় যে ভারতের মতো বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।
প্রচারিত ভিডিওগুলোর কমেন্ট পর্যলোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী একে সত্য ধরে কমেন্ট করছেন।
ভাইরাল ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এক ব্যক্তি নামাজের ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর পেছনে একদল লোক বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে। কি-ওয়ার্ড ও ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো প্রতিবেদন কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে ‘গশ্চি শাহী দরবার’ নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্টে গত বছরের ১২ জুন শেয়ার করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ‘অসাধারণ বাজনা অসাধারণ বাঁশির সুর। গশ্চি শাহী দরবার শরিফ’ ক্যাপশনে প্রকাশিত ১ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ভিডিওটির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। ভিডিওটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, নামাজের ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি কিছুক্ষণ পর হাত তুলে মোনাজাত করে ওই স্থান ত্যাগ করেন। ভিডিওতে ওই ব্যক্তি মাজার জিয়ারত করার সময় তাঁর ডান পাশে কিছু লোককে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে দেখা যায়। এ ছাড়া ভিডিওটিতে একজনকে সামনে থেকে মোবাইল ফোন হাতে ভিডিও করতেও দেখা যায়।
এ ছাড়া ওই অ্যাকাউন্টে একই ধরনের আরও ভিডিও রয়েছে। পাশাপাশি এসব ভিডিওতে থাকা বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে ভাইরাল ভিডিওতেও দেখা যায়।
আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার দেওয়ানপুর গ্রামে ‘গশ্চি শাহী দরবার শরিফ’ অবস্থিত। দৈনিক আজাদী-তে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এই দরবারে বার্ষিক ওরস উপলক্ষে মিলাদ ও ছেমা মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত দরবার শরিফের ছবির সঙ্গে ‘গশ্চি শাহী দরবার’ নামের টিকটক অ্যাকাউন্টের প্রোফাইলে ব্যবহৃত ছবির মিল পাওয়া যায়।
এ ছাড়া গত বছরের জুলাই মাসে ‘Zaroori’ নামক একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও এই একই ভিডিও ভারতের দাবি করে প্রচার করা হয়েছিল।
সিদ্ধান্ত
ভারতের মসজিদে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নামাজে ব্যাঘাত ঘটানোর দাবিটি সঠিক নয়। এটি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের রাউজানের গশ্চি শাহী দরবার শরিফের একটি পুরোনো ভিডিও। মূলত একটি ভিডিওর প্রথম অংশ কেটে ভারতের মসজিদের ঘটনা দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে।