হোম > পরিবেশ

রাজধানীতে জলাবদ্ধতা: বৃষ্টি না হলেও পানিতে ডোবে কমিশনার রোড

আবুল বাসার সাজ্জাদ, ঢাকা

অনেক সময় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে ডুবে যায় সড়ক। দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন স্থানীয়দের চলাচল করতে হয়। গতকাল রাজধানী পূর্ব রামপুরার জামতলার কমিশনার রোডে। ছবি: আজকের পত্রিকা

অল্প কিছুক্ষণ জোরে বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কোথাও আবার দিনের পর দিন জমে থাকে সেই পানি। তবে পূর্ব রামপুরার জামতলার কমিশনার রোডের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ শুধু বৃষ্টির পানিতে সীমাবদ্ধ নয়। আকাশে মেঘ না থাকলেও অনেক সময় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে উঠে ডুবে যায় সড়ক। দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন স্থানীয়দের আসা-যাওয়া চলে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও সমাধান করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।

কমিশনার রোড ও আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা কাজ না করায় বর্জ্যের লাইনের পানিও দ্রুত সরে না। বৃষ্টি আর উপচানো ড্রেনের পানি মিলিয়ে জলাবদ্ধতা এখন তাঁদের প্রায় প্রতিদিনের ভোগান্তির অংশ।

অনেক সময় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে ডুবে যায় সড়ক। দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন স্থানীয়দের চলাচল করতে হয়। গতকাল রাজধানী পূর্ব রামপুরার জামতলার কমিশনার রোডে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়লা পানিতে কাপড় ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউ জুতা হাতে নিয়ে কাপড় উঁচুতে ধরে হাঁটেন। কেউ একটু পথের জন্য রিকশা নেন। রিকশাচালকেরাও অনেক সময় পানির কারণে ওই সড়কে যেতে ভাড়া বেশি চান।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শিপু আহমেদ বলেন, ‘সব সময় পানি জমে থাকায় আমার বিল্ডিংয়ের সামনের পাকা অংশ ফেটে গেছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এত ঐতিহ্যবাহী নামী এলাকা রামপুরা। অথচ সিটি করপোরেশনের অবহেলার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।’

অনেক সময় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে ডুবে যায় সড়ক। দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন স্থানীয়দের চলাচল করতে হয়। গতকাল রাজধানী পূর্ব রামপুরার জামতলার কমিশনার রোডে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাস্টার্স শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন হৃদয় আহমেদ। মাত্র ছয় মাস আগে এই এলাকার একটি মেসে উঠেছেন। এসেই দেখছেন সড়কে ময়লা পানি জমে থাকায় ইচ্ছা থাকলেও হাঁটার সুযোগ নেই। বাড়তি রিকশাভাড়া বাঁচাতে তাই অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

সকালে বাসা থেকে বের হয়ে সড়কে পানি দেখে রিকশা ডাক দিয়েছিল স্কুলশিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার। কিন্তু বেশি ভাড়া চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত জুতা হাতে নিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়েই চলা শুরু করল সে।

স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী ইস্কান্দার সরদারের দাবি, প্রায় এক যুগ ধরে সড়কটির পানি নিষ্কাশনের সমস্যা চলছে। তিনি বলেন, ‘পানি বের হয় না। বৃষ্টি হলে রাস্তার পানি দোকানে এসে পড়ে। ক্রেতা আসে না, মালামাল নষ্ট হয়।’

অনেক সময় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে ডুবে যায় সড়ক। দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন স্থানীয়দের চলাচল করতে হয়। গতকাল রাজধানী পূর্ব রামপুরার জামতলার কমিশনার রোডে। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বাধ্য হয়ে নিজেদের অর্থে ড্রেন পরিষ্কারের চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তবে সেই উদ্যোগে সমস্যার সমাধান হয়নি।

ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ বলেছে, তারা কমিশনার রোডের বাসিন্দাদের এই ভোগান্তির বিষয়ে অবগত নয়। ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের কাছে ছয় মাসে এই জায়গার কোনো অভিযোগ আসেনি।’