হোম > পরিবেশ

এ কেমন গ্রীষ্ম এল ইউরোপে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এএফপি

ইউরোপে গ্রীষ্ম মানেই একসময় ছিল নরম রোদ, দীর্ঘ বিকেল আর কোমল উষ্ণতা। কিন্তু সেই চেনা গ্রীষ্ম যেন এখন অতীতের কোনো গল্প। ইউরোপের আকাশে আজ অন্য এক ঋতুর ছায়া—যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে, নদীর বুক শুকিয়ে আসছে, বনভূমিতে আগুন ছুটছে আর শহরের রাস্তায় হাঁটাও হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ।

চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগের কথাই ধরা যাক। গ্রীষ্মকালে (জুন থেকে আগস্ট) এখানে সাধারণত বেশ মনোরম ও মৃদু উষ্ণ আবহাওয়া থাকে। তাপমাত্রা থাকে ২২ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। কিন্তু সেই প্রাগেই কি না এবার তাপমাত্রা পৌঁছাল প্রায় ৪০ ডিগ্রিতে!

এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য বলছে, মে মাসের শেষভাগ ও জুনে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও স্পেনের কিছু এলাকায় দৈনিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়েছিল। পশ্চিম ইউরোপে জুন মাসের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস—যা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় তাপমাত্রার চেয়ে অন্তত ৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি বেশি।

এ যেন জলবায়ু পরিবর্তনের সেই ভবিষ্যৎ, যার সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে দিয়ে আসছেন। তীব্র গরমের সঙ্গে ইউরোপে এখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাবদাহ, খরা ও দাবানল। স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোতে দাবানল নতুন কিছু নয়। কিন্তু এখন আগুনের এই মৌসুম শুরু হয়ে যাচ্ছে আরও আগে, স্থায়ী হচ্ছে দীর্ঘদিন এবং ছড়িয়ে পড়ছে এমন সব অঞ্চলে, যেগুলো একসময় তুলনামূলক নিরাপদ ছিল।

কখনো কখনো আগুন এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠছে যে, তা নিজস্ব আবহাওয়া তৈরি করছে। দাবানলের ফলে তৈরি হওয়া বিশাল ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ মেঘ থেকে সৃষ্টি হতে পারে প্রবল বাতাস, বজ্রপাত ও উড়ন্ত অঙ্গার। ফলে আগুন আরও দূরে ছড়িয়ে পড়ে, নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

শুধু বন নয়, গরমে শুকিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের নদীগুলোও। রাইন, পো ও দানিয়ুবের পানির স্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে নেমে গেছে। এতে নৌপরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমছে, চাপে পড়ছে শিল্পকারখানার কার্যক্রমও। কৃষকেরাও পড়েছেন বিপাকে। কমছে ফসলের উৎপাদন, বাড়ছে সেচের চাহিদা, অথচ সেই পানিই মিলছে না পর্যাপ্ত।

গরমের সবচেয়ে নির্মম আঘাতটি অবশ্য মানুষের শরীরে। প্রবীণ, শিশু ও অসুস্থ মানুষদের জন্য তীব্র দাবদাহ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতা। এই অস্বাভাবিক গরমের অর্থনৈতিক মূল্যও বিশাল। ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চরম আবহাওয়ার কারণে ইউরোপে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৩৮ বিলিয়ন ইউরো। সামনে ঝুঁকি আরও বড়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে ৫ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইউরোরও বেশি।

তাই ইউরোপ এখন গাছ লাগাচ্ছে, শহরে শীতল আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে, পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করছে, খরা-সহনশীল ফসলের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু অভিযোজনই শেষ সমাধান নয়। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো না গেলে ইউরোপের এমন ‘ব্যতিক্রমী’ গ্রীষ্মই আগামী দিনের স্বাভাবিক ঋতু হয়ে উঠতে পারে।

প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় আজ হতে পারে বজ্রবৃষ্টি

আজ বৃষ্টি হবে কি না জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার আশঙ্কা, প্লাবনের ঝুঁকিতে যেসব জেলা

বিশ্বের অন্যতম বিরল মাছ আবিষ্কার—যার চোখ নেই

ঢাকায় হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি

আরও ৫ দিন বৃষ্টি

ভয়াবহ দাবানলে যেভাবে হাজারো বন্যপ্রাণীকে অক্ষত রাখল স্পেন

৭ অঞ্চলের ঝড়ের আভাস, ঢাকায় হবে কি

আগামী কয়েকদিন বাড়বে বৃষ্টি, বিপৎসীমার ওপরে কুশিয়ারার পানি