শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যৌথ উদ্যোগে রাজধানীতে ‘হর্নের বিরুদ্ধে মোটর শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্পে’র আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শোভাযাত্রাটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট-কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা প্রদক্ষিণ করে বিজয় সরণি ও বিমান সিগন্যাল হয়ে আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এনডিসি, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার, বিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে কাজ করলে পরিবেশ দূষণ রোধ করা সহজ হবে। হর্নের বিরুদ্ধে এই মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে সেই যৌথ উদ্যোগের সূচনা হলো। তিনি বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ উদ্যোগী হলে শব্দদূষণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আজকের এই শোভাযাত্রা থেকে শব্দদূষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ করে ড্রাইভারদের যে ম্যাসেজটা আমরা দিতে চাই তা হলো, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, সবাই মিলেই পরিবেশটাকে ঠিক করতে হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এনডিসি বলেন, উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন কোনো অবস্থাতেই যেন আমদানি না হয়—সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ট্রাফিক সার্জেন্টরা শব্দদূষণের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জরিমানা কার্যক্রম শুরু করেছে, যা আরও জোরদার করা হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ডিএমপি একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।
শোভাযাত্রায় ডিএমপির সুসজ্জিত মোটরসাইকেল, পিকআপ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যানবাহন সড়ক প্রদক্ষিণ করলে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ করতালির মাধ্যমে কর্মসূচিকে স্বাগত জানান। অনেক পথচারী শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০ দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়, যা এই মোটর শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হলো। এ কার্যক্রমে ‘গ্রিন ভয়েসে’র তরুণ স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করেন।