পর্যটননির্ভর সামুদ্রিক অঞ্চলে দূষণের নতুন এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘সায়েন্সডিরেক্ট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাহামার সমুদ্রে হাঙরের দেহে কোকেন, ক্যাফেইনসহ বিভিন্ন ওষুধজাত রাসায়নিকের উপস্থিতি রয়েছে।
গবেষণায় মোট ৮২টি হাঙরের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৩টি হাঙরের শরীরে চার ধরনের ‘কনটামিনেন্টস অব ইমার্জিং কনসার্ন’ (সিইসি) শনাক্ত করা হয়েছে। এই রাসায়নিকগুলো হলো—অ্যাসিটামিনোফেন (ব্যথানাশক), ডাইক্লোফেনাক, কোকেন এবং ক্যাফেইন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের দূষক উপাদান সাধারণত মানুষের কার্যক্রম, বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্রিক অঞ্চলের বর্জ্য থেকে সমুদ্রে প্রবেশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানিয়েছে, গবেষণাটির জন্য পাঁচ প্রজাতির হাঙর সংগ্রহ করা হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল লেমন শার্ক, আটলান্টিক নার্স শার্ক, ব্ল্যাকটিপ শার্ক, ক্যারিবিয়ান রিফ শার্ক এবং টাইগার শার্ক।
এর আগে ২০২৪ সালে ব্রাজিল উপকূলবর্তী সমুদ্রেও ১০ টির বেশি হাঙরের শরীরে কোকেন শনাক্ত হয়েছিল। তবে এই গবেষণাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে প্রথমবারের মতো কোনো হাঙরের শরীরে ক্যাফেইন ও অ্যাসিটামিনোফেন শনাক্ত হলো। একই সঙ্গে বাহামার মতো তুলনামূলকভাবে ‘নির্মল’ হিসেবে পরিচিত সামুদ্রিক পরিবেশে ডাইক্লোফেনাক ও কোকেনের উপস্থিতিও প্রথমবারের মতো ধরা পড়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব হাঙরের শরীরে এসব দূষক ছিল, তাদের দেহে ট্রাইগ্লিসারাইড, ইউরিয়া এবং ল্যাকটেটের মাত্রায় পরিবর্তন ঘটেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাসায়নিকগুলো হাঙরের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে এ ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতি শুধু পরিবেশ দূষণেরই প্রমাণ নয়, বরং তা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করতে পারে।