সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও এর টেকসই ব্যবহারে নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি কিছু বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার চায়না ইনস্টিটিউট ফর মেরিন অ্যাফেয়ার্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে সহায়তা করেছে চীন। এর ফলে বিশ্ব সমুদ্র ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।
সিএমজি ও সিনহুয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চুক্তিটিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। পরিবেশের ওপর কোনো প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করেছে বেইজিং। এ ছাড়া ৫০টির বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সামুদ্রিক সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তি করেছে দেশটি। যৌথভাবে ৪০টির বেশি সামুদ্রিক গবেষণাকেন্দ্র ও গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণে ছোট পরিসরের হলেও কার্যকর অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমুদ্রবিষয়ক সক্ষমতা বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা তৈরি ও উন্নত করার ক্ষেত্রে চীন সুবিধা ভাগাভাগি ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের বিষয়টিকে সমন্বিতভাবে বিবেচনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে দেশটি।
এ ছাড়া চীন সামুদ্রিক অণুজীব সম্পদের প্রায় ৬০ হাজার নমুনা সংরক্ষণ করেছে। এসব নমুনা সংরক্ষণের জন্য সংগ্রহশালা ও তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে দেশটি। নমুনা ও তথ্য ব্যবহারের সুযোগ সহজ করতে বিশেষায়িত সেবাও চালু করেছে তারা।