কয়েক দিনের অস্বস্তিদায়ক ভ্যাপসা গরমের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। রাজধানীসহ অনেক এলাকায় আজ রোববার বিকেল থেকেই দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে, ফলে অনেকাংশে কমেছে তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা!
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতা আগামী কয়েক দিন থাকতে পারে। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা বাড়ছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে দেশের বেশির ভাগ এলাকাতেই বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও বলা হয়েছে, একই সঙ্গে এই সময়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে, যার সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি। ঝড়ের সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাতের মধ্যে ঝড়ের তীব্রতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় এই বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গরমের তীব্রতা হ্রাস পাবে এবং স্বস্তি অব্যাহত থাকতে পারে।
এ দিকে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে—রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অন্তত ১০ থেকে ১২টি জেলার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যেখানে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এতে নিচু এলাকা ও শহরের কিছু অংশে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর একই সঙ্গে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে না থাকা, বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকা এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নৌযানগুলোকে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।