বৃষ্টি কমায় পানি নামছে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে। বেশির ভাগ নদ-নদীর পানিও কমেছে। এদিকে ক্ষয়ক্ষতি ভেসে উঠছে বিভিন্ন এলাকায়। হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর।
চট্টগ্রামে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বন্যায় চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৫ হাজার ২২৩টি বসতঘর এবং ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬০টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর চট্টগ্রাম নগরীর ১৯৬ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে; যা গত ছয় বর্ষার পুরো মৌসুমের ক্ষয়ক্ষতিকে ছাড়িয়ে গেছে।
এ ছাড়া মৌলভীবাজারে ৯৫ এবং বান্দরবানে ৭৫ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে কুড়িগ্রাম ছাড়া অন্য জেলাগুলোতে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সে হিসাবে উত্তরেও দীর্ঘমেয়াদি বন্যার আভাস নেই।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের গতকালের নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী) পয়েন্টে, সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে; সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি কমেছে; যা আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন কমতে পারে। ফলে আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গতকাল সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে গতকাল তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আজাদ বলেন, কক্সবাজারের চারটি স্থানে ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত উপকূলীয় বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। মাতামুহুরী, পূর্বপাড়া, পূর্ব মেহেরনামা ও শীলখালী এলাকায় স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে আজাদ বলেন, পতেঙ্গা এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রকল্পটি শেষ হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের হিসাব বলছে, জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায়। বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ৪ হাজার ৫১৯টি বসতঘর এবং প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৮০টি বসতঘর, ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৮৭ কিলোমিটার সড়ক এবং ৯টি সেতু ও কালভার্ট।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের হিসাবে, চট্টগ্রাম মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। এতে ২ হাজার ২৪৬টি বসতঘর, ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১২৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্গত এলাকা বাশঁখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, পুরো উপজেলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ হয়েছে, তা স্বচক্ষে না দেখে বলা যাবে না। অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান এলাকায় না এসেই একটা সিদ্ধান্তে চলে যায়। এটা ঠিক নয়। ফসল, ঘরবাড়ি, রাস্তা, গবাদিপশু, ধান চাল, পুকুর ও ঘেরের মাছসহ কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই।
এদিকে বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে বাঁশখালী উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। একদিকে প্রধান সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙন ও ফাটলের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্দশায় পড়া মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে টানা ভারী বর্ষণে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর ১৯৬ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার সড়ক; যা গত ছয় বর্ষার পুরো মৌসুমের ক্ষয়ক্ষতিকে ছাড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রাথমিক হিসাবে, এবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সড়ক সংস্কারে প্রয়োজন ৩৪৭ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গত ৪৩ বছরের মধ্যে এবার রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বর্ষণে প্রচুর সড়ক নষ্ট হয়েছে। আর্থিকভাবে করপোরেশন দুর্বল। এ ক্ষেত্রে আমরা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ চাইব। আর আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব।’
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের চার উপজেলায় প্রায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে গেছে, ছোট-বড় গর্ত হয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলার কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে পুরোপুরি হিসাব এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে জানিয়েছে এলজিইডি।
এলজিইডি মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, এলজিডির ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যা টাকার অঙ্কে প্রায় ২৮ কোটি টাকা হবে। এ ছাড়া আরও দু-এক দিন সময় লাগবে পুরোপুরি ক্ষতির পরিমাণ জানতে।
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যায় বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক, কালভার্ট, সেতু, পানি সরবরাহব্যবস্থা ও স্যানিটেশন, বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ফসল চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় একটি সেতু ভেঙে পড়ায় দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
জেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় এলজিইডির আওতায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পাকা, কাঁচা ও ইউনিয়ন সড়ক রয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্তত ২১ কিলোমিটার সড়ক ও ১৫টি কালভার্ট এবং অসংখ্য ছোট-বড় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ দেওয়ান জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় রয়েছে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে বান্দরবান-কেরাণীহাট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বান্দরবান-রাঙামাটি-বাঙ্গালখালিয়া সংযোগ সড়ক এবং বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়ক আছে।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে গেছে তিনটি আরসিসি সেতু ও সাতটি বেইলি সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সচল করতে স্বল্প মেয়াদে প্রায় ৭ কোটি টাকা এবং দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই পুনর্নির্মাণে আরও প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে রয়েছে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক এবং বিস্তৃত অবকাঠামো নেটওয়ার্ক। পাহাড়ি জনপদে নির্মিত পাকা, আধা পাকা ও কাঁচা সড়ক, সেতু, কালভার্ট এবং জনসেবামূলক স্থাপনাগুলোর বড় অংশই ক্ষতির মুখে পড়েছে।
জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা বলেন, এখনো প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। প্রকৌশলীরা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে হিসাব প্রস্তুত করবে, তারপর ক্ষতির বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে।
টানা বর্ষণ ও জেলার ২টি নদীতে পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ধসের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে কাল ১৬ জুলাই থেকে পর্যটন স্পট ফের চালু করা হবে। গতকাল দুপুরে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস।
তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ১৮ ঘণ্টা পরে নিচে নেমে আসে। ফলে বাঁ তীরের জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। গতকাল দুপুর ১২টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১০ মিটার; যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৫ সেন্টিমিটার নিচে।
তিস্তাপারের গোবর্ধন গ্রামের আবজাল হোসেন বলেন, গত রাতে পানি বেড়ে চরাঞ্চলের বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। তবে সকাল থেকেই পানি কমতে শুরু করে এবং পানিবন্দী বাড়িগুলো থেকে পানি নেমে যাচ্ছে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, গত মৌসুমে জেলার ৫টি উপজেলার নদীতীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদীশাসনের কাজ করা হয়েছে। এতে নদী মূল স্রোতোধারায় সরে গিয়েছে; যার কারণে বিপৎসীমার ১০ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয় তেমন প্লাবিত হয়নি।
নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি কমে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে এখন বিপৎসীমার ৫ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সোমবার রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, তিস্তার পানি বেড়ে সোমবার রাতে তাঁর ইউনিয়ন টেপাখড়িবাড়ীসহ ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছিল। গতকাল সকালে নদীর পানি কমে যাওয়ার কারণে এসব ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে যাচ্ছে।
ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, দুপুর ১২টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে তিস্তার পানির উচ্চতা কুড়িগ্রামের প্রবেশপথে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে স্থিতিশীল রয়েছে। এ অবস্থায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে পাউবোর বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল সন্ধ্যায় দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল সন্ধ্যার পর নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ও বামনডাঙা ইউনিয়নে নদের মধ্যবর্তী ফান্দেরচর গ্রামের নিচু এলাকার কিছু বাড়িঘরে প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। রাত পর্যন্ত পানি বাড়ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস থাকলেও পানি বৃদ্ধির হার কিছুটা কম বলে মনে হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের কিছু জায়গা প্লাবিত হতে পারে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যেসব স্থান দুর্বল রয়েছে, সেগুলো মেরামতে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।’
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]