গুলশানের হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার ছায়া অবলম্বনে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বানিয়েছেন ‘শনিবার বিকেল’। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তৎকালীন সেন্সর বোর্ড। বারবার চেষ্টা করেও মুক্তির অনুমতি পাননি নির্মাতা। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠিত হলে মনে করা হচ্ছিল এবার বুঝি আলোর মুখ দেখবে শনিবার বিকেল। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হওয়ার পর সেই প্রত্যাশা বেড়েছিল বহুগুণ। কিন্তু তা আর হয়নি। এ নিয়ে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে ফারুকীকে। তবে তিনি ছিলেন চুপ। অবশেষে এই নির্মাতা জানালেন কেন মুক্তি পায়নি শনিবার বিকেল।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পায় গুলশানের হোলি আর্টিজানের ঘটনা নিয়ে নির্মিত বলিউড সিনেমা ‘ফারাজ’। সে সময় ফারুকী চেয়েছিলেন, ফারাজের আগেই শনিবার বিকেল মুক্তি দিতে। অনেক প্রতিবাদ, দৌড়ঝাঁপ, ফেসবুকে লেখালেখি করেও তা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই বছর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি দেওয়া হয় শনিবার বিকেল। গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ফারুকী জানালেন, মূলত ওটিটিতে মুক্তি দিয়ে দেওয়ায় প্রেক্ষাগৃহে আর মুক্তির চেষ্টা করেননি তিনি।
ফেসবুকে ফারুকী লেখেন, ‘শনিবার বিকেল কেন মুক্তি দিচ্ছেন না? অনেকেই আমার উদ্দেশ্যে এই হাওয়াই প্রশ্ন ছুড়েছেন গত দেড় বছর। প্রশ্নের মধ্যে এমন একটা ভাব লুকাইয়া রাখা আছে অ্যাজ ইফ, আমি এখন উগ্রবাদ নিয়া কথা বলতে ভয় পাই। বাস্তবতা হইল, সিনেমাটি সনি লিভে মুক্তি পাওয়ার পর হাজার হাজার অনলাইন লিঙ্ক ছড়াইয়া পড়ে। যার দেখার সে দেখে ফেলেছে। আর কারও দেখা বাকি থাকলে সে এক সেকেন্ডেই দেখতে পারবে। অনলাইনে অ্যাভেইলেবল একটা সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে কেন মুক্তি দিচ্ছেন না—এই দাবি একমাত্র তাঁরাই করতে পারেন, যাঁরা সিনেমা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। বাংলাদেশের বাজারে একটা সুপারহিট ছবিও ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বাদ দিলে কত টাকা আয় করে, এটা অন্দরমহলের লোক জানে। যেমন আমাকে কিন্তু এনারা কেউ বলবেন না, “ব্যাচেলর” সিনেমা হলে এখন মুক্তি দিচ্ছেন না কেন? কারণ দেয়ার ইজ নো বিজনেস লেফট।’
ফারুকী আরও লেখেন, ‘যাঁরা কল্পনায় অনেক কিছু ভাবতে আনন্দ পাচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে আমার ছোট মন্তব্য—আমি আমার বানানো সকল সিনেমাই ওউন করি। আগের মতোই ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক (জি ওটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ) যেকোনো উগ্রবাদ নিয়ে সিনেমাও করব। শিল্পীর ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে যেমন সংকট থাকার কথা না, তেমনি চেতনার নামে শত শত মানুষ গুম-খুনের বিরুদ্ধে কথা বলতেও সংকট থাকার কথা না।’