আবারও আইনি জটিলতা ও স্বাস্থ্য সংকটে পড়েছেন পপতারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা কাউন্টিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় এক মাস পর স্বেচ্ছায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন এই গায়িকা।
গত ৪ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হাইওয়েতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন ব্রিটনি। তাঁর গাড়িটি লেনের ভেতরে-বাইরে আঁকাবাঁকা হয়ে চলছিল, হঠাৎ হঠাৎ ব্রেক করছিল। তাঁকে থামানোর পর প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্রিটনির শরীরে অ্যালকোহল ও নিষিদ্ধ ড্রাগসের উপস্থিতি পায় পুলিশ। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে পরদিন ভোরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রিটনি স্পিয়ার্সের পরিবারের সদস্য ও কাছের মানুষেরা তাঁকে চিকিৎসা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। অবশেষে ১২ এপ্রিল তাঁর প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন যে, ব্রিটনি নিজেই পুনর্বাসন কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ব্রিটনির দুই ছেলে শন প্রেস্টন ও জেইডেন জেমস এই কঠিন সময়ে মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর মা লিন স্পিয়ার্সও মেয়ের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। ব্রিটনির ম্যানেজার কেড হাডসন বলেছেন, ব্রিটনি এখন সঠিক পথে ফেরার চেষ্টা করছেন। পুনর্বাসন কেন্দ্রে দুই ছেলে তাঁর সঙ্গে সময় কাটাবেন। এ ছাড়া তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্য প্রিয়জনেরাও এগিয়ে এসেছেন।
কয়েক মাস আগে ব্রিটনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি আর কোনো দিন গান গাইবেন না। তবু ব্রিটনিভক্তরা আশা করছেন, এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া তাঁর জীবনে স্থিতি ফিরিয়ে আনবে।
অনেক দিন ধরেই মাদকাসক্তি ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স। ২০০৭ সালে স্বল্প সময়ের জন্য একটি রিহ্যাবে ভর্তি হয়েছিলেন। পরের বছর একাধিকবার তাঁকে হাসপাতালে নিতে হয় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে। এর ফলে তাঁকে একজন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে রাখা হয়। ব্রিটনির ক্যারিয়ার, সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয়াদি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পান তাঁর বাবা জেমি স্পিয়ার্স। ব্রিটনির খরচ, খাওয়াদাওয়াসহ অনেক কিছুর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ১৩ বছর পর ২০২১ সালে ভক্তদের আন্দোলনের জেরে এই অভিভাবকত্ব থেকে মুক্তি পান ব্রিটনি স্পিয়ার্স।