বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তপন চৌধুরী। সোলস ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী ছিলেন তিনি, এককভাবেও গেয়েছেন অসংখ্য গান, প্লেব্যাক করেছেন সিনেমার গানে। অনেক দিন পর আবারও গান নিয়ে আসছেন তপন চৌধুরী। তবে কণ্ঠশিল্পী নয়, সুরকার হিসেবে। সংগীতশিল্পী প্রিয়াঙ্কা গোপের জন্য একটি গানের সুর করেছেন তপন চৌধুরী। গানটি লিখেছেন তপন চৌধুরী ও কবির বকুল।
প্রিয়াঙ্কা গোপ পড়াশোনা করেছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সংগীতে তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন পণ্ডিত অরুণ ভাদুড়ী, আনন্দ চক্রবর্তী, অসিত রায়, ওয়াহিদুল হক, সুবীর নন্দী, শুভ্রা গুহ প্রমুখের কাছে। প্রিয়াঙ্কা রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি ও উচ্চাঙ্গসংগীতে বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৫ সালে ‘অনিল বাগচীর একদিন’ সিনেমায় প্লেব্যাক করে সেরা কণ্ঠশিল্পীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। উচ্চাঙ্গ, রবীন্দ্র ও নজরুলের গান নিয়ে অ্যালবাম ও গান প্রকাশ করলেও এবারই প্রথম কোনো মৌলিক গান গাইছেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কার প্রিয় শিল্পী তপন চৌধুরী। নিজের প্রথম মৌলিক গানটি প্রিয় শিল্পীর সুরে হওয়ায় ভীষণ আনন্দিত তিনি। গানের শিরোনাম ‘কতদিন হয়নি দেখা’। ‘কতদিন হয়নি দেখা, কতদিন দেখি না তোমায়, শুধু একটু চোখের দেখা দেখব বলে, অন্তর যায় ভেঙে, যায় পুড়ে যায়’—এমন কথায় গানটি লিখেছেন তপন চৌধুরী ও কবির বকুল। সংগীত আয়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। আগামীকাল কণ্ঠ দেবেন প্রিয়াঙ্কা। পুরো গান তৈরি হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে প্রকাশের তারিখ।
গানটি নিয়ে গীতিকার কবির বকুল বলেন, ‘এটা আমরা অনেক দিন আগে লিখেছিলাম। গানের মুখটা তপনদার লেখা। এরপর তিনি আমাকে বলেন পুরো গানটি লিখতে। পুরো গানটি তৈরি হওয়ার পর একটি টিভি অনুষ্ঠানে একবার গেয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া শাকিলা জাফরও একবার গেয়েছিলেন গানটি। এবার গানটির কথা ও সুরে বেশ কিছু পরিমার্জনের পর নতুন করে তৈরি হচ্ছে প্রিয়াঙ্কা গোপের জন্য।’
‘আমি কী বেঁচে আছি নাকি মরে বেঁচে আছি’, ‘তুমি কেমনে এত নিঠুর হইলা’—গানগুলোও তপন চৌধুরীর লেখা ও সুর করা। তাঁর নিজের গাওয়া গানগুলো দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। তপন চৌধুরী এখন কানাডায় স্থায়ী হয়েছেন। সেখানেই নিয়মিত গানের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রিয়াঙ্কা গোপের জন্য করা গানটি নিয়ে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘কতদিন হয়নি দেখা গানটি প্রথমে লিখেছিলাম আমার মাকে ভেবে। কতদিন আমার মায়ের মুখটা দেখি না! পরে এটাকে একটি ভালোবাসার গান হিসেবে দাঁড় করানো হয়। গানের কথা ও সুরটা আমার ভীষণ প্রিয়। তাই ভাবছিলাম কাকে দিয়ে গাওয়ানো যায়। প্রিয়াঙ্কা যখন গাইতে চাইল, আমার খুব ভালো লাগল। ওর এত সুন্দর একটা গলা, এত তৈরি একটা কণ্ঠ! ও গাইলে গানটি যথাযথ হবে।’
প্রিয়াঙ্কা গোপ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে তপন দাদার গান শুনে বড় হয়েছি। বিশেষত, তাঁর অনুশোচনা অ্যালবামটির সব গান এতবার শোনা হয়েছে যে সব গান আমার মুখস্থ। সেই শ্রদ্ধেয় প্রিয় শিল্পী আমার জন্য গান করেছেন, এটা সত্যিই আমার জন্য পরম পাওয়া। আমি চেষ্টা করব গানটি মন দিয়ে গাইতে, আমাকে ঘিরে দাদার যে প্রত্যাশা, সেই প্রত্যাশা যেন পূরণ হয়।’