বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের কালজয়ী গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’। ১৯৭৯ সালে প্রকাশ পাওয়া ‘দ্য ওয়াল’ অ্যালবামে ছিল গানটি। পরের বছর এটি মুক্তি পায় সিঙ্গেল হিসেবে। রক ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গানটিকে এবার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পুনর্নির্মাণ করেছেন পিঙ্ক ফ্লয়েডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স। নাম রাখা হয়েছে ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’।
নতুন এই সংস্করণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের কথা। এই বিশেষ আয়োজনে রজার ওয়াটার্সের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি গায়িকা ও গীতিকার মোনা মিয়ারি। তাঁরা এই গানে নতুন কিছু লিরিক যুক্ত করেছেন, যা গানটির রাজনৈতিক ও মানসিক গভীরতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
রক ভক্তদের কাছে কমফোর্টেবলি নাম্ব গানের জন্মের পেছনের গল্পটি বেশ পরিচিত। ১৯৭৭ সালে এক লাইভ পারফরম্যান্সের আগে রজার ওয়াটার্স পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হন। তখন চিকিৎসকেরা তাঁকে অবশ করার ইনজেকশন দিয়েছিলেন। সেই প্রভাবে শরীর অসাড় হয়ে যাওয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এই গান তৈরি হয়, যেখানে ফুটে উঠেছিল মানুষের মানসিক বিচ্ছিন্নতা ও চারপাশের পরিস্থিতির প্রতি উদাসীনতার চিত্র।
৪৭ বছর পর, গানটির নতুন সংস্করণে সেই ব্যক্তিগত অবশতার থিমকে রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি বদলে দিয়েছেন শোক, সংহতি ও প্রতিরোধে। ইসরায়েলি দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়ে মূল গানের কথা পাল্টে দিয়ে তাঁরা এবার গাইছেন, ‘আমি কখনোই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না।’ একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলা হয়েছে—নদী থেকে সাগর, সবার সমান মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে এবং ফিলিস্তিন মুক্ত হবে।
এ গানের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী অংশ হলো মোনা মিয়ারির গাওয়া একটি আরবি অংশ, যার নাম ‘হিন্দস লুল্লাবি’। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের স্মরণে এই অংশটি তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত একটি কাল্পনিক কথোপকথন, যেখানে এক মা তাঁর হারিয়ে যাওয়া সন্তানের সঙ্গে কথা বলছেন।
‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’ গানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে প্রায় ৯ মিনিটের একটি বিশেষ শর্ট ফিল্ম। গাজার ধ্বংসস্তূপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই ভিডিওতে। নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত এসভিএ থিয়েটারে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রতি এই গান ও শর্ট ফিল্মটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রজার ওয়াটার্স ও মোনা মিয়ারি মঞ্চে সরাসরি পারফর্মও করেন। ১৭ জুন গানের ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে তাঁদের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।
এই বিশেষ গান থেকে প্রাপ্ত সব আয় দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’-এর জরুরি সাহায্য তহবিলে, যারা বর্তমানে গাজায় যুদ্ধাহত শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।