২০২৩ সালে গ্রেটা গারউইগ পরিচালিত ‘বার্বি’ ইতিহাস গড়েছিল বক্স অফিসে। বিশ্বজুড়ে ১৪০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের পাশাপাশি অস্কারে আটটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এর সিকুয়েল বা দ্বিতীয় পর্ব তৈরি করতে মুখিয়ে আছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স। কিন্তু পারিশ্রমিক-সংক্রান্ত জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ‘বার্বি ২’।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বার্বি সিনেমায় ‘কেন’ চরিত্রে অভিনয় করা রায়ান গসলিং দ্বিতীয় পর্বের জন্য পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ২০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছেন। তিনি ছাড়াও বার্বি চরিত্রের অভিনেত্রী মার্গো রবি পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সঙ্গে দাবি করেছেন মুনাফার অংশ। তবে তাঁদের এই শর্তে রাজি নয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির সিইও ডেভিড জাসলাভ অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি ও মুনাফার অংশ ভাগাভাগির শর্তে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
হলিউডে সাধারণত কোনো সিনেমার একাধিক পর্ব তৈরির পরিকল্পনা থাকলে অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে শুরুতেই একাধিক সিনেমার চুক্তি করে রাখা হয়। এতে প্রথম সিনেমা সুপারহিট হলেও দ্বিতীয় পর্বে তারকাদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিতে হয় না, কারণ তাঁদের পারিশ্রমিক আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। কিন্তু বার্বির ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। পরিচালক হিসেবে নির্মাতা গ্রেটা গারউইগকে এই সিনেমায় যুক্ত করতেই ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে নমনীয় হতে হয়েছিল। শুধু একটি সিনেমার জন্যই অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল তারা। ফলে এখন দ্বিতীয় পর্বের জন্য নতুন করে বিশাল অঙ্কের দর-কষাকষি করতে হচ্ছে।
বার্বির মূল স্বত্বাধিকারী বিশ্বখ্যাত খেলনা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে যদি ওয়ার্নার ব্রাদার্স সিনেমাটির দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু করতে না পারে, তবে বার্বির চলচ্চিত্র স্বত্ব ম্যাটেলের কাছে ফেরত চলে যাবে। সে ক্ষেত্রে ম্যাটেল অন্য কোনো স্টুডিওর কাছে নতুন করে সিনেমাটির স্বত্ব বিক্রি করতে পারে।
বার্বি ২ নিয়ে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সহ-প্রধান প্যাম আবডি ও মাইকেল ডি লুকা বলেন, ‘ম্যাটেলের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি রয়েছে। বার্বির পরবর্তী পর্বটি চূড়ান্ত করার জন্য ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু বড় প্রস্তাব দিয়েছি। তবে দুর্ভাগ্যবশত এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি।’
পরিচালক গ্রেটা গারউইগ এবং তাঁর স্বামী তথা বার্বির সহ-লেখক নোয়া বাউমবাখের কাছে বার্বি ২ সিনেমার জন্য একটি চমৎকার গল্প রয়েছে। কিন্তু কাস্টিং ও পারিশ্রমিকের বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা স্টুডিওর সঙ্গে সেই কনসেপ্ট শেয়ার করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
অতীতে সনি ও মার্ভেলের মধ্যকার ‘স্পাইডার-ম্যান’ চুক্তি নিয়েও বড় ধরনের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে মিটে গিয়ে বিশাল ব্যবসায়িক সাফল্য এনে দেয়। বার্বির পারিশ্রমিক নিয়ে টানাপোড়েন চললেও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে মার্গো রবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লাকিচ্যাপের সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের আশা, শেষ মুহূর্তে হয়তো ডেডলাইনের আগেই বার্বি ২ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে ওয়ার্নার ব্রাদার্স।