বিশ্বখ্যাত স্পাই ফ্র্যাঞ্চাইজি জেমস বন্ডের পরবর্তী উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন—এই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার কান পাতলে একটি নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে; তিনি হলেন ‘ইউফোরিয়া’ খ্যাত অভিনেতা জ্যাকব এলর্ডি। সর্বশেষ গিলেরমো দেল তোরোর ফ্রাংকেনস্টাইন-এ তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করেছে। জল্পনা সত্যি হলে, জেমস বন্ড হিসেবে ইতিহাস গড়তে চলেছেন এই ২৮ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গসিপ ওয়েবসাইট ‘ডিউক্সমই’ (DeuxMoi)-এর তথ্য অনুযায়ী, এমজিএম স্টুডিওর পক্ষ থেকে জ্যাকব এলর্ডিক সরাসরি ‘০০৭’ চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আরও চমকপ্রদ খবর হলো, সিরিজের ২৬তম এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করতে পারেন প্রখ্যাত পরিচালক ডেনিস ভিলেনিউভ। ‘ডুন’, ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’-এর মতো সিনেমার নির্মাতা তিনি। যদিও স্টুডিওর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও এলর্ডির নাম আসার পর ফ্র্যাঞ্চাইজির ভক্তদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যদি জ্যাকব এলর্ডি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তবে তিনি হবেন জেমস বন্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অভিনেতা। সাধারণত বন্ড চরিত্রে একটু বয়স্ক এবং ব্রিটিশ অভিনেতাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত এলর্ডির অন্তর্ভুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এবার ‘জেন-জি’ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে নতুন এবং তরুণ এক বন্ডকে তুলে ধরতে চাচ্ছে।
ড্যানিয়েল ক্রেগের পর বন্ডের জুতোয় পা গলানোর দৌড়ে অনেক তাবড় অভিনেতার নাম শোনা গিয়েছিল। ইদ্রিস এলবা ছিলেন তালিকার শীর্ষে, কিন্তু বর্ণবৈষম্য সংক্রান্ত বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত অনিচ্ছায় তিনি সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া অ্যারন টেলর-জনসন, টম হল্যান্ড, হ্যারিস ডিকিনসন এবং ক্যালাম টার্নারের মতো নামও আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এলর্ডির নাম সামনে আসায় সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কেন জ্যাকব এলর্ডি? এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলোতে। ‘সল্টবার্ন’ এবং ‘প্রিসিলা’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ইতিমধ্যেই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার ব্যক্তিত্বে যে আভিজাত্য এবং গভীরতা রয়েছে, তা একজন তুখোড় গোয়েন্দা চরিত্রের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা।
এখন দেখার বিষয়, এমজিএম স্টুডিও শেষ পর্যন্ত এলর্ডির হাতে মার্তিনির গ্লাস তুলে দেয় কি না। নতুন প্রজন্মের এই জেমস বন্ড বড় পর্দায় কতটা সফল হন, তা জানার জন্য অধীর অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে বন্ড প্রেমীরা।