ডিজনির ২০১৬ সালের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘মোয়ানা’ সবার মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। আয় করেছিল প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। একই গল্প নিয়ে লাইভ-অ্যাকশন সিনেমা বানিয়েছেন টমাস কেল। তবে বক্স অফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি এই রিমেক সিনেমা।
সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি জানিয়েছে, গত ১০ জুলাই মুক্তি পাওয়ার পর সিনেমাটি তেমন দর্শক টানতে পারেনি। ২৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত মোয়ানা বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৬৬ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করতে পেরেছে। এই আয় থেকে হল মালিকদের অংশ ও ট্যাক্স বাদ দিয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি লোকসান গুনতে হতে পারে ডিজনিকে।
তবে মোয়ানার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যর্থতায় মনঃক্ষুণ্ন নন সিনেমার অভিনেতা ডোয়াইন জনসন। বিনোদনের জগতের কঠোর বাস্তবতায় এমনটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছেন তিনি। কিছু দর্শকের মনে আনন্দ দিতে পেরেছেন, এতেই খুশি অভিনেতা।
পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোয়াইন জনসন বলেন, ‘প্রথম কয়েকটি রিভিউ দেখে খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিল। আমাদের এই পেশায় এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। আমি ও আমার স্ত্রী বিষয়গুলো নিয়ে অনেক কথা বলেছি। সিনেমাটি যদি কারও ভালো লাগে তবে দারুণ; ভালো না লাগলেও সমস্যা নেই।’
সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এক দ্বীপের সাহসী তরুণী মোয়ানাকে ঘিরে। দ্বীপের চেনা পরিবেশ ছেড়ে সে এক রোমাঞ্চকর সমুদ্রযাত্রায় পাড়ি জমায়। তার মূল উদ্দেশ্য নিজের সম্প্রদায়ের মানুষদের বড় বিপদ থেকে বাঁচানো এবং দ্বীপে সুখ-সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা। এই বিপজ্জনক অভিযানে তার সঙ্গী হয় শক্তিশালী ডেমিগড মাউই। যাত্রাপথে বিভিন্ন অদ্ভুত প্রাণী ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় তারা।
সিনেমা বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মূল অ্যানিমেশনের প্রায় হুবহু অনুকরণ হওয়ায় লাইভ-অ্যাকশন সিনেমাটি ব্যর্থ হয়েছে। মোয়ানা যখন মুক্তি পায়, তখন প্রেক্ষাগৃহে চলছিল ‘টয় স্টোরি ৫’ ও ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টারস’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা। ফলে দর্শক ভাগ হয়ে গেছেন। ২০২৪ সালের ব্লকবাস্টার ‘মোয়ানা ২’ মুক্তির পর খুব কম সময়ের ব্যবধানে এই রিমেক আসায় দর্শকের আগ্রহও তুলনামূলক কম ছিল।