হলিউড তারকা বেন অ্যাফ্লেকের এআই স্টার্টআপ ‘ইন্টারপজিটিভ’ বিপুল মূল্যে কিনে নিয়েছে ওটিটি জায়ান্ট নেটফ্লিক্স। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের একটি ফেডারেল ফাইলিংয়ে প্রকাশ পেয়েছে, এই চুক্তির জন্য নেটফ্লিক্স নগদ ৫৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।
অস্কারজয়ী অভিনেতা ও নির্মাতা বেন অ্যাফ্লেক স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন ২০২২ সালে, যা এত দিন সম্পূর্ণ গোপনে কাজ করছিল। ইন্টারপজিটিভ সাধারণ জেনারেটিভ এআইয়ের মতো শুধু টেক্সট বা প্রম্পট থেকে নতুন ভিডিও তৈরি করে না; বরং এর মূল লক্ষ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজের সুবিধার্থে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা।
এটি সিনেমার শুটিংয়ের প্রতিদিনের ফুটেজ ব্যবহার করে একটি বিশেষ এআই মডেল তৈরি করে। এই মডেল সিনেমার পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ, যেমন সাউন্ড মিক্সিং, শটের লাইটিং পরিবর্তন এবং নিখুঁত ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস যোগ করার কাজকে সহজ করে।
নেটফ্লিক্সের সঙ্গে এই চুক্তির ফলে ইন্টারপজিটিভের ১৬ সদস্যের প্রকৌশলী, গবেষক ও ক্রিয়েটিভ দল নেটফ্লিক্সে যোগ দিচ্ছে। বেন অ্যাফ্লেক নিজেও নেটফ্লিক্সের সিনিয়র অ্যাডভাইজার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
বেন অ্যাফ্লেক বলেন, ‘চলচ্চিত্রের সূচনা থেকে ডিজিটাল যুগ কিংবা মোশন ক্যাপচার থেকে ভার্চুয়াল প্রোডাকশন—প্রযুক্তি সব সময় শিল্পীদের পাশাপাশি বিবর্তিত হয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে আমাদের যৌথ অঙ্গীকার এবং প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে নেটফ্লিক্সের কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে আমাদের এই একত্রীকরণ সম্ভব হয়েছে।’
গত বৃহস্পতিবার নেটফ্লিক্সের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়-সংক্রান্ত সভায় ইন্টারপজিটিভের সঙ্গে তাদের কাজের বিষয়টি তুলে ধরেন নেটফ্লিক্সের সহ-সিইও টেড সারান্দোস। তিনি জানান, চলতি বছর নেটফ্লিক্সের প্রায় ৩০০টি কনটেন্টে কোনো না কোনোভাবে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে তাদের ‘দ্য আমেরিকান এক্সপেরিমেন্ট’ ডকু সিরিজে এআই ব্যবহারের ফলে আগের চেয়ে কম খরচে ও দ্রুতগতিতে সিকোয়েন্স তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
তবে এআই নিয়ে হলিউডের নির্মাতা ও কলাকুশলীদের উদ্বেগের মধ্যে সারান্দোস আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি অসাধারণ কিছু তৈরি করতে সব সময় প্রতিভাবান শিল্পীদেরই প্রয়োজন, এআই তা পরিবর্তন করতে পারবে না। সিনেমা যাঁরা বানান, তাঁরাই সিনেমা বানাচ্ছেন। এআই কেবল তাঁদের আরও উন্নত টুলস সরবরাহ করছে, যাতে তাঁরা সেগুলো আরও চমৎকারভাবে তৈরি করতে পারেন।’