কান উৎসবে এ বছর স্বর্ণপাম জেতার লড়াইয়ে আছে ২২টি সিনেমা। সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে যেসব সিনেমা ঘিরে, তার মধ্যে অন্যতম ইরানি নির্মাতা আসগর ফারহাদির ‘প্যারালাল টেলস’। আসগর ফারহাদি সব সময়ই সাধারণ মানুষের জীবনের ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে বড় সামাজিক সত্য তুলে ধরেন। প্যারালাল টেলসও তার ব্যতিক্রম নয়।
কান উৎসবে আলোচিত এই সিনেমার প্রিমিয়ার হয়ে গেল ১৪ মে। প্যারালাল টেলসের অভিনয়শিল্পী ইসাবেল হুপার্ট, ভার্জিনি এফিরা, ভিনসেন্ট ক্যাসেল, অ্যাডাম বেসা, পিয়ের নিনে ও ক্যাথরিন ডেনিউভকে নিয়ে প্রিমিয়ারে হাজির ছিলেন পরিচালক আসগর ফারহাদি। সিনেমাটি দেখে প্রায় ছয় মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশনের মধ্য দিয়ে ভালো লাগা প্রকাশ করেন দর্শকেরা। অনেক সমালোচক মনে করছেন, এই সিনেমা ফারহাদিকে তাঁর তৃতীয় অস্কারের দৌড়ে এগিয়ে দিতে পারে।
প্যারালাল টেলসের প্রিমিয়ারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিনেমার চেয়ে ইরান পরিস্থিতি নিয়েই বেশি কথা বলেন আসগর ফারহাদি। ২০২৩ সাল থেকে বেশির ভাগ সময় অন্য দেশে থাকলেও এর আগের সপ্তাহে ইরানে ছিলেন তিনি। নিজ চোখে দেখেছেন মাতৃভূমির দুরবস্থা ও দুর্দশা। ইরান পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ফারহাদি।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার যেমন নিন্দা জানিয়েছেন ফারহাদি, তেমনি ইরান সরকার কর্তৃক আন্দোলনকারীদের ওপর যে দমন-পীড়ন হয়েছে; তারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আসগর ফারহাদি বলেন, ‘যুদ্ধে বহু বেসামরিক মানুষ ও শিশু মারা গেছে। এই যুদ্ধের আগে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামা অনেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। এই দুটি ঘটনাই অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কখনোই ভোলা যাবে না।’
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতি ও অস্থিরতা নিয়ে আসগর ফারহাদি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই আমি চাই না আরেকজন মানুষের জীবনহানি হোক। তা সে যুদ্ধই হোক, মৃত্যুদণ্ড হোক কিংবা বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যা। পৃথিবী নাকি অনেক এগিয়েছে, সভ্যতার নাকি অগ্রগতি হয়েছে; তবু প্রতিদিন সকালে কোনো কারণ ছাড়াই নিরীহ মানুষের মৃত্যুর খবর শুনে আমাদের ঘুম ভাঙছে। এটা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও মর্মান্তিক।’