দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩১তম আসরে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে প্রখ্যাত ইরানি নির্মাতা মাজিদ মাজিদির ‘মিডডে মিল’। এই জয়ের সুবাদে আগামী অস্কারে বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে সরাসরি লড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে সিনেমাটি।
গত বৃহস্পতিবার বুসান সিনেমা সেন্টারের আউটডোর থিয়েটারে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সেরা সিনেমা নির্বাচিত হওয়ায় মিডডে মিল পেয়েছে ৫০ মিলিয়ন ওন আর্থিক পুরস্কার।
বুসানে প্রথমবারের মতো সেরার স্বীকৃতি পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাজিদি। এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেন তাঁর সদ্য প্রয়াত মাকে। পুরস্কার গ্রহণের সময় মাজিদি বলেন, ‘শুটিং শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেই আমার মা মারা যান। আমার মনে হয়, তিনি যাওয়ার আগে আমাকে যে ভালোবাসা ও মানসিক শক্তি দিয়ে গেছেন, তার সুবাদেই আজ এই সাফল্য।’
এরপর নিজ দেশ ইরানের সাধারণ মানুষের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেন মাজিদ মাজিদি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত, বছরের পর বছর ধরে থাকা কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা এবং ওষুধের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে মাজিদি জানান, এতসব অভাব ও লড়াইয়ের মাঝেও ইরানি জনগণ কখনো হাল ছাড়েনি।
সিনেমার গল্প এগিয়েছে ইরানের এক দরিদ্র গ্রামের প্রেক্ষাপটে। সেখানকার একটি স্কুলের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক দাউদ সোলান। ওই স্কুলের শিশুদের প্রতিদিন দুপুরের খাবার (মিডডে মিল) আসত এক বিত্তবান ব্যক্তির অনুদান থেকে। কিন্তু সেই ব্যক্তির মৃত্যুর পর অনুদান বন্ধ হয়ে যায়।
খাবার বন্ধ হয়ে গেলে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা আর স্কুলে আসতে চায় না। ফলে স্কুলটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। স্কুলটি বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন শিক্ষক দাউদ। তিনি এবং তাঁর মা নিজেদের জমানো টাকা শিশুদের খাবারের পেছনে ব্যয় করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাও শেষ হয়ে এলে জ্বালানি চোরাচালানের কাজ শুরু করেন দাউদ। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার এই লড়াইয়ের গল্পে একজন শিক্ষকের মানবিকতা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্বই উঠে এসেছে মাজিদির এ সিনেমায়।
৬ অক্টোবর শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে কোরিয়া, জাপান, চীন, ইরান, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ১৩টি সিনেমা অংশ নেয়।