সম্প্রতি ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। তাতে ‘শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার’ বিভাগে রয়েছে নিয়ামুল মুক্তার নাম। ‘রক্তজবা’ সিনেমার জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তবে নিয়ামুল মুক্তা এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভুল নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রক্তজবা সিনেমাটি তিনি পরিচালনা করলেও চিত্রনাট্য লিখেছেন মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজ। তাই সঠিক ব্যক্তির হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিয়ামুল মুক্তা।
গতকাল ফেসবুকে নিয়ামুল মুক্তা লেখেন, ‘আমি তো রক্তজবার চিত্রনাট্য লিখিনি, তাহলে কীভাবে দেওয়া হলো আমাকে এই পুরস্কার? রক্তজবার কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজ। আমাকে দেওয়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এর শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছি। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজের হাতে এই পুরস্কার দেখতে চাই।’
রক্তজবা সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। বিষয়টি নিয়ে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক ইবনে হাসান খান আজকের পত্রিকাকে জানান, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় নাম ভুল এসেছে। সংশোধনীর জন্য আজ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করবেন তাঁরা। ইবনে হাসান খান বলেন, ‘রক্তজবা সিনেমার চিত্রনাট্যকার পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু তালিকায় ভুলে পরিচালক নিয়ামুলের নাম এসেছে। আমরা সংশোধনীর জন্য অফিশিয়াল চিঠি পাঠাচ্ছি আজ। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে নাম সংশোধন করা হবে।’
তবে শুধু এটাই নয়, রক্তজবার এই পুরস্কারপ্রাপ্তি ঘিরে আরও একটি অভিযোগ সামনে এনেছেন সিনেমাটির পরিচালক। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শর্তাবলিতে উল্লেখ আছে, এ পুরস্কারের বিবেচনাযোগ্য চলচ্চিত্রকে অবশ্যই বিবেচ্য বছরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত হতে হবে। তবে পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার দাবি, রক্তজবা প্রেক্ষাগৃহে নয়, সরাসরি মুক্তি পেয়েছিল ওটিটি প্ল্যাটফর্মে।
নিয়ামুল মুক্তা লিখেছেন, ‘আমি আমার রক্তজবা চলচ্চিত্রটি সিনেমা হলে দেখতে পারিনি, দর্শককে দেখাতে পারিনি। আমি আসলে জানিই না রক্তজবা সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে কি না। সিনেমা হলে মুক্তি না পেলেও কি সেই চলচ্চিত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারে? নাকি গ্রামের অখ্যাত কোনো সিনেমা হলে রক্তজবা নামমাত্র রিলিজ দেখানো হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আশায়?’
পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ইবনে হাসান খান দাবি করেছেন, ২০২২ সালের জুলাইয়ে সেন্সর বোর্ড থেকে বিনা কর্তনে ছাড়পত্র পায় রক্তজবা। পরে প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
রক্তজবা সিনেমাটি তৈরি হয়েছে একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে হঠাৎ একটি চিঠি আসে। যে চিঠির মাধ্যমে শিক্ষক ফিরে যান এক যুগ আগের কর্মকাণ্ডে। অতীত এবং চলমান ঘটনার মিশেলে একে একে উন্মোচন হতে থাকে নানা রহস্য। সামনে আসে একটি ধর্ষণের ঘটনাও। এতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, শরিফুল রাজ, লুৎফর রহমান জর্জ, শিল্পী সরকার অপু, জয়িতা মহলানবিশ, অরিত্র আরিয়া, কামরুল জিন্নাহ, হিমু প্রমুখ।