মুক্তির আগে থেকেই ‘উৎসব’-এর সঙ্গে তুলনা চলছিল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার। নির্মাতা তানিম নূরকেও এই প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে একাধিকবার। আশাবাদী ছিলেন তানিম। দর্শকের আগ্রহকে নিয়েছিলেন ইতিবাচক হিসেবে। বনলতা এক্সপ্রেস উৎসবকে ছাড়িয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল তাঁর। অবশেষে বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি আয়ের রেকর্ড এখন বনলতা এক্সপ্রেসের দখলে। এত দিন শীর্ষে ছিল ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’।
উত্তর আমেরিকায় বনলতা এক্সপ্রেস পরিবেশনা করেছে স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো। হাওয়া সিনেমাটিও একই পরিবেশক সংস্থা উত্তর আমেরিকায় রিলিজ করেছিল। গত শুক্রবার রাতে স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, মুক্তির দুই সপ্তাহে ৫৪টি থিয়েটার থেকে বনলতা এক্সপ্রেসের আয় এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৬ হাজার ডলার। হাওয়ার লাইফটাইম কালেকশন ছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার। সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৮৮টি থিয়েটারে।
৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৪৮টি থিয়েটারে মুক্তি পায় বনলতা এক্সপ্রেস। স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথম তিন দিনেই ১ লাখ ৫৪ হাজার ডলার আয় করে আয়ের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে এসে পড়ে সিনেমাটি। পেছনে ফেলে দেয় ‘তুফান’ (১ লাখ ৫০ হাজার ডলার), ‘প্রিয়তমা’ (১ লাখ ৩২ হাজার ডলার), ‘দেবী’র (১ লাখ ২৫ হাজার) লাইফটাইম কালেকশনকে।
বনলতা এক্সপ্রেসের এমন অর্জনে দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে নির্মাতা তানিম নূর বলেন, ‘এই অর্জন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। আমরা টিম হিসেবে গর্বিত।’
দেশের হলেও ভালো ব্যবসা করছে সিনেমাটি। ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচ সিনেমার মধ্যে বনলতা এক্সপ্রেস এখনো শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। যেখানে অন্য সিনেমাগুলো দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দর্শক হারিয়েছে, সেখানে চতুর্থ সপ্তাহে এসেও সিনেপ্লেক্সগুলোতে সিনেমাটি দেখতে ভিড় করছেন দর্শক। ঈদের পর বাংলা নববর্ষেও উৎসবের আমেজ ধরে রেখেছে সিনেমাটি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা টকিজ ও হইচই স্টুডিওস ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ২৬ দিনে ৮ কোটি ১৮ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে শিগগির দেশের হলে উৎসব সিনেমাকে ছাড়িয়ে যাবে বনলতা এক্সপ্রেস।
উৎসবের মতো বনলতা এক্সপ্রেসও উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি করেছেন তানিম নূর। এবার তিনি বেছে নিয়েছেন কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি। অভিনয় করেছেন একদল তারকা। রয়েছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, সাবিলা নূর, শরিফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরি হক বাঁধন প্রমুখ। বনলতা এক্সপ্রেসের গল্প আবর্তিত হয়েছে ট্রেনের একদল যাত্রী ঘিরে। মানসিকভাবে অসুস্থ মাকে নিয়ে ভ্রমণরত ডাক্তার আশহাব, অজানার খোঁজে বেরিয়ে পড়া চিত্রা, অংকের অধ্যাপক রশীদ উদ্দিন, কিংবা দাপুটে শিক্ষামন্ত্রী আবুল খায়ের খান—সবাই এই ট্রেনের যাত্রী। এই ট্রেনযাত্রা তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।