সমাপনী আয়োজনে পিনপতন নীরবতা। কানের গ্র্যান্ড লুমিয়ের থিয়েটারে কানায় কানায় ভর্তি দর্শক। উপস্থাপক আই হায়দারা মঞ্চে ডেকে নিলেন স্কটিশ অভিনেত্রী টিল্ডা সুইনটনকে। লাল গাউন পরে তিনি মঞ্চে আসতেই দর্শকদের করতালিতে নীরবতা ভাঙল। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে বিজয়ীর নাম ঘোষণার দায়িত্ব তিনি দিলেন জুরি প্রেসিডেন্ট পার্ক ছান উককে। আটজন জুরি সদস্যকে নিয়ে মঞ্চের একপাশে বসে ছিলেন তিনি।
স্বর্ণপাম বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে কিছুটা সময় নিলেন পার্ক ছান উক। বললেন বিশ্বের বহু সংস্কৃতি, লিঙ্গ, জাতিসত্তা বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনকাহিনি চলচ্চিত্রে তুলে আনার গুরুত্ব সম্পর্কে। এটি কীভাবে চলচ্চিত্রশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করে, সেটাও বোঝালেন। তারপর জানালেন, ঠিক এ কারণেই এবার সেরা সিনেমা হিসেবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন রোমানিয়ান নির্মাতা ক্রিস্টিয়ান মুঞ্জিউর ‘ফিয়র্ড’কে।
এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তুমুল করতালিতে মুখরিত হয় গ্র্যান্ড লুমিয়ের থিয়েটার। অভিনয়শিল্পী সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রেনাতে রেইনসভেকে নিয়ে পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠে আসেন পরিচালক ক্রিস্টিয়ান মুঞ্জিউ। এবার স্বর্ণপাম জেতার সঙ্গে সঙ্গে একটি রেকর্ডও করে ফেললেন তিনি। দ্বিতীয়বারের মতো জিতলেন এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। এর আগে ২০০৭ সালে তাঁর ‘ফোর মান্থস, থ্রি উইকস অ্যান্ড টু ডেজ’ কান উৎসবে সেরা হয়েছিল।
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ফিয়র্ড তৈরি হয়েছে নরওয়ের এক প্রত্যন্ত ও জলবেষ্টিত পাহাড়ি উপত্যকা এলাকার প্রেক্ষাপটে। একজন মার্কিন প্রকৌশলী ওই এলাকায় একটি মেগা প্রজেক্টের তদারকিতে যায়। লোভ ও প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতার কারণে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়।
প্রিমিয়ারে ফিয়র্ড ১২ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন পাওয়ার পর সমালোচকেরা অনুমান করেছিলেন, এবার কানের মঞ্চে বড়সড় বাজিমাত করতে চলেছে সিনেমাটি। তবে এটি যে শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপাম পেয়ে যাবে, সেটা অনেকের ধারণার বাইরে ছিল। বেশির ভাগ সমালোচক স্বর্ণপামের লড়াইয়ে এগিয়ে রেখেছিলেন রুশ নির্মাতা আন্দ্রে জাভিয়াগিন্তসেভের ‘মিনোটর’ ও পোলিশ নির্মাতা পাভেল পাভলিকোভস্কির ‘ফাদারল্যান্ড’কে। উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার গ্র্যান্ড প্রিক্স পেয়েছে মিনোটর, আর ফাদারল্যান্ডের ঘরে গেছে সেরা পরিচালকের পুরস্কার।
নিজে স্বর্ণপাম জিতলেও মূল প্রতিযোগিতায় থাকা সব সিনেমার প্রতি সম্মান জানিয়ে, স্বভাবসুলভ নম্র কণ্ঠে ক্রিস্টিয়ান মুঞ্জিউ বলেন, ‘যেকোনো পুরস্কারই পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। এই পুরস্কার পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। তবে সিনেমাটি সত্যিই ভালো কি না, সময়ের বিচারে টিকে থাকবে কি না, তা জানতে আমাদের আরও ১০-২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। ভবিষ্যতে যখন আমরা সিনেমাগুলো আবার দেখব, তখনই বোঝা যাবে কোন কাজটি আসলেই চমৎকার ছিল।’
স্বর্ণপাম
গ্র্যান্ড প্রিক্স
পরিচালক (যৌথভাবে)
চিত্রনাট্য
জুরি প্রাইস
অভিনেত্রী (যৌথভাবে)
অভিনেতা (যৌথভাবে)
স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা
ক্যামেরা দ্যর (নির্মাতার প্রথম সিনেমা)