নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয় না সরকারি অনুদান পাওয়া বেশির ভাগ সিনেমার কাজ, এমন অভিযোগ অনেক দিনের। টাকা পাওয়ার পরও সিনেমা শেষ করতে না পারায় নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারের ঘটনাও দেখা গেছে। তবে এবার উল্টো অভিযোগ পাওয়া গেল নির্মাতাদের কাছ থেকে।
অনুদান ঘোষণার এক বছর পেরিয়ে গেলেও টাকা না পাওয়ায় আটকে আছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সিনেমার কাজ। বারবার যোগাযোগ করেও মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছেন না নির্মাতারা। এমন কথাই জানালেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য অনুদান পাওয়া নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল।
গত বছরের জুলাইয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর সেপ্টেম্বরে প্রদান করা হয় প্রথম কিস্তির ২০ শতাংশ অর্থ। এরপর আর কোনো অর্থ পাননি নির্মাতারা। এ নিয়ে গত ২৯ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেন চার নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল, আলভী আহমেদ, সিংখানু মারমা ও জগন্ময় পাল। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে চিত্রনাট্যের চূড়ান্ত খসড়া, শুটিং শিডিউল, লোকেশন ব্যবহারের অনুমতিপত্র এবং শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের অনুলিপি জমা দেওয়ার পরেও পরবর্তী ৫০ শতাংশ অর্থ বুঝে পাননি নির্মাতারা।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে সচিবালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ‘চলচ্চিত্র বাছাই ও তত্ত্বাবধান’ কমিটির কাছে শুটিং পরিকল্পনার পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন নির্মাতারা। সেই সভায় উপস্থিত কমিটির সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত দ্বিতীয় কিস্তির টাকা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা পাননি তাঁরা। এ কারণে একাধিক সিনেমার প্রযোজক শুটিং শুরু করেও মাঝপথে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। নতুন করে শুটিং শুরুর পরিকল্পনাও করতে পারছেন না তাঁরা। এ ছাড়া গল্প লেখককে ২ লাখ ও চিত্রনাট্যকারকে ৩ লাখ টাকা উৎসাহ পুরস্কার প্রদানের কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি। সেই টাকা দ্রুত পরিশোধ করার অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।
তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সেই চিঠির কোনো উত্তর পাননি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনুদান পাওয়া নির্মাতারা। এমনকি তাঁদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি বলে দাবি নির্মাতাদের। এ বিষয়ে নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল বলেন, ‘অক্টোবরের মধ্যে আমাদের দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ শতাংশ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এরপর আমাদের জানানো হয়, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর টাকা দেওয়া হবে। নির্বাচন চলে গেলেও কোনো খবর না পাওয়ায় মার্চে আমরা চার নির্মাতা বাধ্য হয়ে চিঠি পাঠাই। এরপর আমাদের সঙ্গে আরও যুক্ত হন লাবিব নাজমুছ সাকিব, তানহা জাফরীন ও সৈয়দা নীলিমা দোলা। কিন্তু চিঠি পাঠানোর পরেও মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি।’
এখন নির্মাতারা কী পদক্ষেপ নেবেন, জানতে চাইলে নির্মাতা দোদুল বলেন, ‘আমরা আসল কারণ জানতে চাই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিনেমা নির্মাণ শেষ করতে না পারলে মন্ত্রণালয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সরকার যখন টাকা দিতে পারে না, তখন আমাদের তো কথা বলা ছাড়া কোনো করণীয় থাকে না। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে যেতে চাই না। শুধু জানতে চাই কী কারণ? যদি কোনো কারণ থেকে থাকে, তাহলে সেটা আমাদের কেন জানানো হচ্ছে না? নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু করার পরেও আমাদের এভাবে উপেক্ষা করা তো অপমানের শামিল।’