নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মুহুর্মুহু করতালিতে মঞ্চের অন্যান্য শব্দ কিছুটা ঢাকা পড়ে। তখন ডায়াসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রীড়াশিক্ষক বলে উঠলেন, ‘সকল খেলাধুলায় পারদর্শী!’ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক শিক্ষক বললেন, ও লেখাপড়া ও খেলাধুলা—দুটোতেই পারদর্শী। যাকে নিয়ে এত কথা, তার নাম সুসমিতা দাস।
যশোরের ঝিকরগাছায় ৫২তম শীতকালীন জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৪ এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছিল স্থানীয় বিএম হাইস্কুল মাঠে। সেই অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ে ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দলনেতা হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করে সুসমিতা দাস। এ দুই ইভেন্টে সে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছে।
সুসমিতা দাস যশোরের ঝিকরগাছা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শ্রেণিতে সে দ্বিতীয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় তার জুড়ি নেই। এটুকু বয়সে কৃতিত্বের জন্য বেশ কয়েকটি সনদ উঠেছে তার হাতে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার ইচ্ছা আর শিক্ষকদের প্রেরণায় দৌড় প্রতিযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে সুসমিতা। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দারুণ খেলে সবার দৃষ্টি কাড়ে সে। ২০২৩ সালে একই ফুটবল প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে সেরা গোলদাতা, সেরা খেলোয়াড় ও ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়। গত দুই বছরে সব ধরনের দৌড় প্রতিযোগিতায় সুসমিতা কৃতিত্ব দেখিয়েছে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে। আর এসবের স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পেয়েছে একাধিক পুরস্কার। সুসমিতা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছিল।
ঝিকরগাছা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহছান উদ্দীনসহ অন্য শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, সুসমিতা দাস খুবই মেধাবী।
সুসমিতার বাবা স্বপন দাস একজন শ্রমজীবী মানুষ ও মা শিউলি দাস গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে সে বড়। তাদের বাড়ি জেলার মনিরামপুর উপজেলার সরণপুর জামতলা মোড়ে। সুসমিতা ভবিষ্যতে ফুটবলার হতে চায়।