হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: প্রকৃতিকে নিয়ে শালিকের নীরব প্রতিবাদ

ইরফান উল্লাহ

বৈশাখের ছোঁয়ায় নতুন রূপে সেজেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অপরূপ ছায়াঘেরা সবুজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো গাছগুলো যেন চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে নবজীবনের এক বার্তা। কোথাও রক্তরাঙা ফুলে ছেয়ে গেছে ডালপালা, আবার কোথাও ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে আম ও লিচুগাছ। এ যেন প্রতিবছরের মতো স্বরূপে ফিরে আসা।

ক্যাম্পাসে ঢুকতেই টিএসসিসি প্রাঙ্গণের লিচুবাগানে চোখ আটকে যায়। থোকা থোকা লিচু ঝুলে আছে ডালে। যেন তারা মৃদু স্বরে ডাকছে, ‘আমি লিচু, আমাকে খাও।’ যদিও এখনো তারা অপরিপক্ব, তবু তাদের উপস্থিতিই মন ভরিয়ে দেয়।

লিচুর এই আত্মপ্রচারে পিছিয়ে নেই আমতলার আম। গাছে ঝুলে থাকা কাঁচা আম যেন বলে ওঠে, ‘স্বাদে-গুণে আমও কম নয়।’ এভাবে প্রকৃতির নীরবতায় জন্ম নেয় এক রসাত্মক বিতর্ক—আম ও লিচুর মধ্যে।

তাদের এই বাগ্‌বিতণ্ডা দেখে টিএসসিসি চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়াগাছটি যেন নীরবে হাসে।

তার বার্তা, ‘পাকার আগেই এত বড়াই কেন? দেখো, আমি চুপচাপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে যাচ্ছি।’ ডায়না চত্বরসহ ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালু ও কনকচূড়াও যেন একই সুরে সুর মেলায়। তারা বলে ওঠে, ‘নীরবতাই তাদের ভাষা, সৌন্দর্যই তাদের বক্তব্য।’

তবে আম-লিচুও ছাড় দেওয়ার পাত্র নয়। তাদের যুক্তি, ‘সৌন্দর্য দিয়ে কি পুষ্টির চাহিদা মেটে? আমরা মানুষের প্রয়োজন মেটাই।’

এবার কৃষ্ণচূড়ার পাল্টা প্রশ্ন, ‘তোমরা মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাও ঠিকই, কিন্তু পূর্ণতা কি পায়? পরিপক্ব হওয়ার আগেই তো তোমাদের ছিঁড়ে ফেলা হয়।’ এই কথায় আম কিছুটা থমকে যায়। লিচুও তখন লজ্জায় পড়ে।

ঠিক তখনই হাজির এক খোঁড়া শালিক। জানালার পাশে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা পাখিটির চোখে জমে থাকা অভিমান যেন ভেঙে দেয় সব হাসি-ঠাট্টা। তার অভিযোগ, ‘মানুষ খুবই নির্দয়, ফল নিজেরাও খায় না, আমাদেরও খেতে দেয় না। ফল থাকলেও আমাদের ময়লা খেয়ে বাঁচতে হয়।’

পাখির এই প্রতিবাদ শুধু একটি পাখির অভিযোগ নয়, এটি প্রকৃতির পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি নীরব প্রশ্ন—এত শিক্ষিত মানুষের ক্যাম্পাসে এমন অবহেলা কেন?

এ যুক্তি, তর্ক ও হাসি-ঠাট্টার মাঝে লুকিয়ে আছে এক নির্মম সত্য। প্রতিবছর প্রকৃতি ফিরে আসে তার আপন ছন্দে। যত অবহেলা, যত অযত্নই থাকুক, সে থেমে থাকে না। জীবনানন্দ দাশের সেই চিরন্তন অনুভূতি, ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে—এই বাংলায়।’ প্রকৃতিও ঠিক তেমনই ফিরে আসে বারবার।

কিন্তু মানুষ এদের পূর্ণতায় পৌঁছাতে দেয় না। অপরিপক্ব অবস্থায় এসব ফল ছিঁড়ে ফেলা হয়। এতে ক্যাম্পাসের ফলগুলো বেড়ে ওঠে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও পাকা ফল খেতে পায় না। আবার গাছেরও নানা ক্ষতি হয়। এসব থামাতে প্রয়োজন সচেতনতা। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান—এই ক্যাম্পাস আমাদের; এর গাছ, ফল ও সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্বও আমাদেরই। তাই অপরিপক্ব ফল ছিঁড়ে ফেলা উচিত নয়।

টেক্সটাইটান্সে চ্যাম্পিয়ন ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

পাঠকবন্ধুর বর্ষবরণ উৎসব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্রোদের প্রথম মেয়ে য়াপাও

এইউবিতে নতুন নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ

মহাবিশ্ব প্রসারণের নির্ভুল হার পরিমাপ করলেন আইইউবি শিক্ষকসহ ৪০ বিজ্ঞানী

এআইইউবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩ উদ্‌যাপিত

বৈশাখের উৎসবে রঙিন আরপিএসইউ ক্যাম্পাস

নববর্ষের রঙে রঙিন গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন

জবিতে বর্ণিল আয়োজনে নববর্ষ উদ্‌যাপন