হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

জবির আইইআরের ‘মেঘবন্দনা’

মালিহা মেহনাজ

মেঘবন্দনা অনুষ্ঠানে তিন শিক্ষার্থীর নৃত্য পরিবেশন। ছবি: সংগৃহীত

শ্রাবণ মানেই মেঘের সঙ্গে আলাপ, বৃষ্টির সঙ্গে বন্ধুত্ব। আকাশজুড়ে ধূসর মেঘ, হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টি আর ভেজা বাতাসে প্রকৃতি যেন নিজেই উৎসবের আয়োজনে মেতে ওঠে। ঠিক এমনই এক শ্রাবণের সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (আইইআর) শিক্ষার্থীরা বর্ষা ঘিরে আয়োজন করেন ব্যতিক্রমী এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—‘মেঘবন্দনা’।

বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি, ভেতরে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, আবৃত্তি আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। মনে হচ্ছিল, বইয়ের পাতা ছেড়ে বর্ষার কবিতা যেন নেমে এসেছে ক্যাম্পাসে।

৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩, আইইআরের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। বাঙালির ঋতুচেতনা ও সংস্কৃতি ঘিরেই সাজানো হয়েছিল পুরো আয়োজন। সকাল থেকে নীল, সাদা, আকাশি আর সবুজ রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কারও পোশাকে মেঘের ছোঁয়া, কারও সাজে বৃষ্টির আবেশ, আবার কারও হাসিতে ধরা দেয় শ্রাবণের নির্মল সৌন্দর্য।

শিক্ষকদের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রথমে ইনস্টিটিউটের আন্তফুটবল টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে বর্ষাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মাননা জানানো হয়। প্রকৃতির রূপকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে তুলে ধরা ছবিগুলো দর্শকদেরও মুগ্ধ করে।

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, আধুনিক বাংলা গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে একের পর এক মঞ্চে ওঠেন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি পরিবেশনায় ছিল বর্ষার অনুভব, বাংলার আবেগ আর তারুণ্যের প্রাণচাঞ্চল্য। সুর, কবিতা আর বৃষ্টির আবহ মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য পরিবেশ।

উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিক্ষকদের অংশগ্রহণ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁরাও গান পরিবেশন করেন। ফলে অনুষ্ঠানটি শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; রূপ নিয়েছিল এক আন্তরিক পারিবারিক মিলনমেলায়।

আইইআরের শিক্ষার্থী পুষ্পিতা লোধ বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের ইনস্টিটিউটে কোনো না কোনো ব্যাচ বাঙালিয়ানাকে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আমরা ‘মেঘবন্দনা’ আয়োজন করেছি। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য সময় ছিল খুবই কম। কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি বলেই এত সুন্দর আয়োজন সম্ভব হয়েছে। দিনশেষে সবার আনন্দই আমাদের বড় প্রাপ্তি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকেরা বলেন, সংস্কৃতিচর্চা একজন শিক্ষার্থীর মনন, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, নেতৃত্ব এবং সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশেও সহায়ক।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল অতিথি আপ্যায়ন, স্মৃতি ধরে রাখার আলোকচিত্র আর বন্ধুদের প্রাণখোলা আড্ডা। বিকেলের দিকে তুমুল বৃষ্টি নামলেও উৎসবের আনন্দে তার কোনো ভাটা পড়েনি; বরং বৃষ্টির শব্দই যেন হয়ে উঠেছিল অনুষ্ঠানের আরেকটি সুর।

শেষ বিকেলে সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কণ্ঠ মেলান সমবেত গানে। সেই সম্মিলিত সুর যেন মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর মানুষ যখন একসূত্রে বাঁধা পড়ে, তখন একটি সাধারণ আয়োজনও হয়ে ওঠে অসাধারণ।

ভাড়া বাড়িতে শিক্ষার পরিবেশ ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়: অধ্যাপক তাহমিনা আখতার

প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষে চীনের ভবিষ্যৎ

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব কবিতা দিবস উদ্‌যাপন

পবিপ্রবি এবং ইউনিভার্সিটাস নেগেরি পাডাংয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক তৈরির কৌশল নিয়ে আইএসইউতে সেমিনার

শিক্ষার্থী বাড়লেও বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা, বহুমুখী সংকটে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার

৪২ কর্মদিবসে ফল প্রকাশ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অভূতপূর্ব গতিশীলতা

ঢাবিতে আর্থিক অনিয়মে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হাতে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব

ইউল্যাবে চলছে তিন দিনব্যাপী ‘বিবিএ মনসুন ইভেন্ট’

সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা সম্মেলন