হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

কাচারি ঘর: হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা-সংস্কৃতি

পারভেজ মোশারফ

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সামাজিক জীবনের একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কাচারি ঘর। সম্ভ্রান্ত ও সচ্ছল পরিবারগুলোর আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা এই ঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়, ছিল শিক্ষা, আড্ডা ও মানবিক সম্পর্কের এক জীবন্ত কেন্দ্র।

শহরের ড্রয়িংরুম যেমন অতিথি আপ্যায়নের জায়গা, তেমনি গ্রামের কাচারি ঘর ছিল সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার এক অনানুষ্ঠানিক পাঠশালা। এখানে থাকতেন লজিং শিক্ষক কিংবা গৃহশিক্ষকেরা। তাঁরা শিশুদের কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ, শিষ্টাচার ও নৈতিকতা শেখাতেন। বইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি এখানে গড়ে উঠত জীবনবোধ। ভোরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হতো দিনের কার্যক্রম। নামাজ শেষে পাঠদান চলত, আর শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকত পারিবারিক আন্তরিকতা ও সামাজিক বন্ধন। একসময় গ্রামে চাল বা খাদ্যসামগ্রী দিয়ে তাঁদের সহায়তা করা হতো, পরে তা আর্থিক রূপ নেয়।

কাচারি ঘরের চারপাশে গড়ে উঠত একটি ছোট সামাজিক পরিসর—মসজিদ, পুকুরঘাট, খেলার মাঠ ও পানির উৎস মিলিয়ে এটি হয়ে উঠত একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে, আধুনিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের চাপে সেই কাচারি ঘর আজ প্রায় হারিয়ে গেছে। আজ নতুন প্রজন্মের অনেকে এই ঐতিহ্যের নাম হয়তো জানেই না।

আজকের শিক্ষাব্যবস্থা এগিয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও মানবিকতার ভিত দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আমরা কি হারিয়ে ফেলছি আমাদের শিকড়।

আজকের আধুনিক প্রেক্ষাপটে সম্ভবত নতুনভাবে কাচারি ঘরের ধারণাকে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে; যেখানে শিশুদের পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক আর মানবিক শিক্ষা দেওয়া হবে। গ্রাম কিংবা পাড়ায় এমন ছোট শিক্ষাকেন্দ্র যদি আবার গড়ে তোলা যায়, তাহলে হয়তো নতুন প্রজন্মকে সেই শিকড়ের সঙ্গে আবারও যুক্ত করা যাবে।

বাবার প্রতি ভালোবাসা

১৩৭ বছরে বিএম কলেজ: দক্ষিণাঞ্চলের বাতিঘর

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক পেল সুমিতা

সমাজ পরিবর্তনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান ঢাবি উপাচার্যের

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংয়ে বৈশ্বিক অবস্থান ধরে রেখেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: শিক্ষার্থীদের চোখে এগিয়ে যেসব দল

ইউআইইউ মার্স রোভার: এশিয়া পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ

অভিজ্ঞতা: সেন্ট পিটার্সবার্গে ৭ দিন

গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিইউএফটিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি