চীনে আগের তুলনায় বই পড়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষও নিচ্ছে পাঠাভ্যাস বাড়ানোর নানা কর্মসূচি। এর সুফল মিলছে দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলেও।
শানদং প্রদেশের লিনই শহরের হাংথৌ গ্রামের বাসিন্দা চৌ ছিংকুই এই পরিবর্তনের অনন্য উদাহরণ। দারিদ্র্যের কারণে ১৯৯৫ সালে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে পরিবারের সহযোগিতায় তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
২০২১ সালে চৌ ও তাঁর ছয় বন্ধু মিলে ৮০ হাজার ইউয়ান সংগ্রহ করে একটি পুরোনো বাড়িকে গ্রন্থাগারে রূপান্তর করেন। বর্তমানে এটি স্থানীয় শিশুদের পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গ্রন্থাগারটির নাম রাখা হয়েছে ‘সিয়ুয়ান লাইব্রেরি’, যার অর্থ ‘উৎস স্মরণ’। এখানে শিশুতোষ গল্প থেকে শুরু করে ক্ল্যাসিক সাহিত্যসহ ২০ হাজারের বেশি বই সংরক্ষিত রয়েছে।
গ্রন্থাগারটি পরিচালনা করেন চৌর ৭০ বছর বয়সী বাবা, যিনি স্বেচ্ছাশ্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। আশপাশের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরাও বই সাজানো, তালিকা প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দিকনির্দেশনা দেন।
গ্রন্থাগারটিতে এখন নিয়মিত বই পড়তে আসেন ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। দর্শনার্থীর খাতায় এরই মধ্যে উঠেছে এক হাজারের বেশি নাম।
শাংহাই জিয়াওতং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক চৌ। নিয়মিত অনলাইনে গ্রামের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। ছুটিতে গ্রামে গিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে সরাসরি পাঠ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
চৌর এই উদ্যোগে গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে গ্রাম থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, আর ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ জনে।
জাতীয় পর্যায়েও চীনে পাঠাভ্যাস উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে বিস্তৃত উদ্যোগ। ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের বই পড়ার হার ৭৬ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮২ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বর্তমানে দেশটিতে কাউন্টি ও তার ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক এলাকায় ৩ হাজার ২০০টির বেশি গণগ্রন্থাগার রয়েছে; পাশাপাশি প্রায় ৬৮ হাজার শাখা লাইব্রেরি ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।