দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে পারফর্মিং আর্টস কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিনাজপুর সঙ্গীত কলেজে আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না। সুস্থ সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে একটি মেধাভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে সমন্বিত করে বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
উচ্চশিক্ষায় চলমান সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিনের নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন লক্ষ্য উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক করে দেশের জন্য কার্যকর মানবসম্পদ তৈরি করা। তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শিক্ষা কাঠামোতে পরিবর্তন এনে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে আরবি, মান্দারিন, জাপানি ও কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া কর্মীদের আরবি ভাষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। একইভাবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানো প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ ও ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন উপাচার্য। তিনি একটি বনজ ও একটি ফলজ গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষক ও দিনাজপুর সঙ্গীত ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।