বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মাধ্যমিক স্তর থেকে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এই তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেসকো নির্বাহী বোর্ডের ২২৪তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে তিনি এই মন্তব্য করেন। আজ মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবদুল খালেক জানান, দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা বাজেট ধাপে ধাপে মোট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৪) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতির উল্লেখ করে আবদুল খালেক জানান, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাধ্যমিক স্তর থেকে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের আওতায় অনুদান কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম সংকটে পড়বে।’ তিনি প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের পূর্বপ্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বানও জানান।
নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, দেশে মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূলধারায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
আবদুল খালেক আরও বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির নবনির্বাচিত সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ তৃণমূল পর্যায়ে ঐতিহ্য সংরক্ষণে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হবে।
অধিবেশনে তিনি গাজা অঞ্চলে শিক্ষা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানান এবং বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় ইউনেসকোর কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
অধিবেশনে আবদুল খালেক ইসরায়েল কর্তৃক গাজার শিক্ষা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি গাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া; হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিক নিহত হওয়া এবং ইরানের স্কুলে ভয়াবহ হামলা এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইউনেসকোকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর ফলে যাতে উন্নয়নশীল দেশ, আফ্রিকা ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর কারিগরি সহায়তা বা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।