অভিবাসন, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুতি সংকটের টেকসই সমাধানে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা, জ্ঞানভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ও নীতি-সংলাপ জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ‘সেন্টার ফর মাইগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড ডিসপ্লেসমেন্ট’ (সিএমআরডি)।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) এই বিশেষায়িত গবেষণাকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সিএমআরডির চিফ প্যাট্রন ও ডিআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী কেন্দ্রটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি ব্রুনেই দারুস সালামের অধ্যাপক ও সিএমআরডির উপদেষ্টা এ কে এম আহসান উল্লাহ গবেষণার অগ্রাধিকার, দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টারের পরিচালক ড. মো. শরিফুল আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশ সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো তাইফুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন রামরুর পরিচালক মেরিনা সুলতানা, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগের প্রধান শরীফুল ইসলাম হাসান, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রোভিসি ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দেক এবং বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সালমা আলী।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ নেন ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পারভেজ সিদ্দিকী। ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী, এনসিসিডব্লিউইর সদস্যসচিব নাইমুল আহসান জুয়েল এবং এনডিডব্লিউডব্লিউইউর সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আক্তার।
অনুষ্ঠানে আরও অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ অভিবাসী অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান রিয়াজ আহমেদ খান, সম্প্রীতি/সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের টিম লিডার মো. আবুল বাসার এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রতিনিধি ফাহমিদা ই জন্নাত।
এ ছাড়াও সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ, ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র, বাস্তব, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, কর্মজীবী নারী, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল, ইউএনওডিসি, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন, ডেভকম লিমিটেড, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন এবং ওকুপের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে বাস্তুচ্যুতি এবং শরণার্থী সমস্যা বাংলাদেশের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অথচ এই খাতে গবেষণা ও বাজেট বরাদ্দ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। তিনি বলেন, ‘কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রমাণভিত্তিক গবেষণা অত্যন্ত জরুরি। সিএমআরডি শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও সময়োপযোগী নীতি-সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
অধ্যাপক এ কে এম আহসান উল্লাহ বলেন, ‘অভিবাসন, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুতি এখন শুধু মানবিক ইস্যু নয়; এটি বৈশ্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় ও নীতি-সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এই খাতে আঞ্চলিক নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে যেতে সিএমআরডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
সেন্টারের পরিচালক ড. মো. শরিফুল আলম বলেন, অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যেই এই প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে সিএমআরডি।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণাভিত্তিক এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন এবং দেশের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় এর ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আশা প্রকাশ করেন।