ইউরোপের উদীয়মান শিক্ষার কেন্দ্র আয়ারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এল দেশটির অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ঘোষিত ‘ইউসিডি গ্লোবাল এক্সিলেন্স স্কলারশিপ’-এর আওতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বৃত্তিটির আওতায় শিক্ষার্থীরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন।
আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন দেশটির অন্যতম বৃহত্তম এবং মর্যাদাপূর্ণ পাবলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১% বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ইউসিডি তার সমৃদ্ধ ক্যাম্পাস, অত্যাধুনিক গবেষণাগার এবং বিশ্বমানের অনুষদগুলোর জন্য সুপরিচিত।
সুযোগ-সুবিধা
এই স্কলারশিপটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় কিছু আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কোর্সের ধরন ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে শতভাগ অথবা অর্ধেক টিউশন ফি মওকুফ করা হয়। এটি মূলত একটি বড় ধরনের আর্থিক সাশ্রয়, যা আয়ারল্যান্ডের মতো দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকে অনেক সহজ করে তোলে। তবে এই বৃত্তির সুবিধা কেবল টিউশন ফি মওকুফের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিস্তৃত নেটওয়ার্কিং এবং পেশাদার উন্নতির নতুন দুয়ার খুলে দেয়।
আবেদনের যোগ্যতা
বৃত্তিটি মূলত সেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যাঁরা আয়ারল্যান্ডে একটি পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। এই বৃত্তির প্রধান শর্ত হলো আবেদনকারীর আকর্ষণীয় একাডেমিক ফল থাকতে হবে। শুধু পড়াশোনা নয়, ক্লাসরুমের বাইরে সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং নেতৃত্বের গুণাবলিও থাকতে হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক। সে জন্য আইইএলটিএসে গড়ে ৬.৫ স্কোর থাকতে হবে।
আবেদনের প্রয়োজনীয় তথ্য
গ্লোবাল এক্সিলেন্স স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত অফার লেটার, প্রার্থীকে শনাক্তকরণের জন্য পাসপোর্ট সাইজের স্ক্যান করা ছবি, বিগত সব পরীক্ষার একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা মার্কশিটের স্ক্যান কপি জমা দিতে হবে। বৃত্তির আবেদনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ২০০ শব্দের একটি লিখিত স্টেটমেন্ট, এটা পিডিএফ ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে। এ ছাড়া আপডেটেড জীবনবৃত্তান্ত আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
অধ্যয়নের ক্ষেত্রসমূহ
ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনে সাধারণত চারটি প্রধান কলেজের অধীনে বিস্তৃত পরিসরে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়। ইউসিডি কলেজ অব বিজনেসের অধীনে রয়েছে এমবিএ, এমএসসি ইন ফিন্যান্স, মার্কেটিং, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস। ইউসিডি কলেজ অব সায়েন্সের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স, ডেটা অ্যানালিটিকস, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, বায়োলজি এবং ম্যাথমেটিকস রিলেটেড মাস্টার্স প্রোগ্রাম। এ ছাড়া কলেজ অব সোশ্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড ল, কলেজ অব হেলথ অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।
আবেদন পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীরা লিঙ্কে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ৩১ মার্চ, ২০২৬।