যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ এবারও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। একই সঙ্গে দেশের ১৩টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে আটটি সরকারি, চারটি বেসরকারি এবং একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
বিশ্বের ১ হাজার ৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভিত্তি করে এই র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবারও বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অবস্থান করে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ধরে রেখেছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), যার অবস্থান ৭১১ থেকে ৭২০ র্যাঙ্ক ব্যান্ডে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, যা ৯০১ থেকে ৯৫০ র্যাঙ্ক ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে। ২০২৬ সালের র্যাঙ্কিংয়েও এই তিনটি প্রতিষ্ঠান দেশের শীর্ষ তিনে ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক স্কোর ২৮ দশমিক ৩। বিভিন্ন সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়টি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। কর্মসংস্থান ফলাফল সূচকে ঢাবি ৯৫ স্কোর অর্জন করেছে, যা স্নাতকদের চাকরির ক্ষেত্রে উচ্চ গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়। নিয়োগদাতাদের দৃষ্টিতে সুনাম সূচকে এর স্কোর ৫০ দশমিক ৮।
গবেষণা ও আন্তর্জাতিকীকরণ ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগতি দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক সূচকের স্কোর ৬১ দশমিক ১ এবং টেকসই উন্নয়ন সূচকে স্কোর ৬০ দশমিক ৬। তবে সাইটেশনস পার ফ্যাকাল্টি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত সূচকে স্কোর তুলনামূলকভাবে কম, অর্থাৎ ৮ ও ৮, যা গবেষণা ও একাডেমিক সম্পদ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ২ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত ১ দশমিক ৪।
তালিকায় থাকা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় (চতুর্থ), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (পঞ্চম), আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (ষষ্ঠ), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সপ্তম), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (অষ্টম), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (নবম), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (দশম), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১১তম), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১২তম) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৩তম)।