আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে সরকার শিক্ষা খাতে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে বলে প্রত্যাশা করছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই অর্থবছরে আমরা জিডিপির ২ শতাংশ পাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর থেকে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন এই বাজেট (জিডিপির) ৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত করা হবে। এবার আমরা পাচ্ছি টেকনিক্যাল মাদ্রাসায় (কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে) ১৮ হাজার কোটি টাকা।’
আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী এহছানুল হক, ‘যেহেতু বাজেট ঘোষণা হয়নি এটা আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আমরা এই জিডিপির ২ শতাংশ, আমরা আশা করছি ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা আমাদের পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাজেটে সেটা উন্নত হবে এবং প্রমাণ আমরা পাব সেই অর্থায়ন থেকে।’
আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে ‘মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে’ তুলে ধরে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবার ‘শুভংকরের ফাঁকি নেই’।
এ দিন দুপুরে দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সেই জায়গায় আমরা এ বছর ২ শতাংশ পর্যন্ত পেয়েছি।’
প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপির নতুন সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেবে ১১ জুন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি দেশের শিক্ষা খাত জিডিপির ৬ শতাংশ বা বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ পেলে তা আদর্শ ধরা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষা খাত জাতীয় বাজেটে এ পরিমাণে বরাদ্দ পায় না।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের বরাদ্দ একসঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী।
এ অর্থবছরে শুধু শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আর শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।