প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই ওয়েবসাইটে আপলোডের অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম মো. মেহতাব কায়েস। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নবম গ্রেডভুক্ত সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত।
আজ বৃহস্পাতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
তিন বছরের বিরতির পর গত এপ্রিলে নেওয়া হয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। ফল প্রস্তুতের কাজও শেষ হয়ে গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে তা আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করতে চেয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ফল প্রকাশের আগেই প্রস্তুত করা ফলাফল ওয়েবসাইটে আপলোড করার অভিযোগ ওঠে সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মেহতাব কায়েসের বিরুদ্ধে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেনকে পাঠানো ওই চিঠিতে মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী লিখেছেন, ‘গত ৮ জুলাই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতকৃত ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করতে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরি করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ফলাফল প্রকাশের আগে তা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘কিন্তু বৃহস্পতিবার ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল আপলোড করা হয়। অল্প সময় সচল থাকায় এ লিংকগুলো থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল ডাউনলোড করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে।’
এ ঘটনা তদন্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. মিরাজুল ইসলাম উকিলকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অধিদপ্তর। এ কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্য বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটি গঠনের আদেশে।
এ ঘটনায় অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম একটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে জমা দিয়েছেন উল্লেখ করে মহাপরিচালক তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি ও আপলোড করার ক্ষেত্রে যে ধরণের নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলা উচিত ছিল তা অনুসরণ করা হয়নি। এ কাজের জন্য সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মেহতাব কায়েসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠিতে অনুরোধ করেছেন মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মেহতাব কায়েসের সঙ্গে টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া বলেন, ‘অসাবধানতাবশত আপলোড করা ৯ জেলার ফল মুছে ফেলা হয়েছে। ফল প্রস্তুত করার কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। আশা করা হচ্ছে, রোববার বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।’
তিন বছর বন্ধ থাকার পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে আবার বৃত্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা গত ১৪ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৮ এপ্রিল শেষ হয়।
এর আগে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরের বছর তা বন্ধ করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করা হয়। পরে ২০২২ সালে ডিসেম্বরে ফের ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়।
এবার প্রাথমিকের বৃত্তির জন্য মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে। পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাবে শিক্ষার্থীরা। ট্যালেন্টপুলে বা মেধাবৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। আর সাধারণ বৃত্তি পাবে সাড়ে ৪৯ হাজার শিক্ষার্থী। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক ৩০০ টাকা পাবে। সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক ২২৫ টাকা পাবে।