হোম > শিক্ষা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট কাটাতে রিসোর্স পুল হচ্ছে

রাহুল শর্মা, ঢাকা

শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় এবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্যও ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পুলে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা দেখা দিলে তাঁরা পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র বলছে, শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাজনিত ছুটিসহ নানা কারণে প্রায়ই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে রিসোর্স পুল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৪-এর তথ্য বলছে, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত পাঁচ শিক্ষককে নিয়ে রিসোর্স পুল গঠনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। রিসোর্স পুলে অন্তর্ভুক্তির জন্য চারটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হতে হবে; বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে; রিসোর্স পারসন হিসেবে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে এবং একাডেমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিখন ঘাটতি দূর করতেই রিসোর্স পুল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে দেশের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিভিন্ন কারণে শিক্ষকসংকট তৈরি হলে শিখন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। রিসোর্স পুল গঠন করা হলে এই সংকট আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৬৫ হাজারের বেশি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৪ হাজারের বেশি পদ বর্তমানে শূন্য। মূলত মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এসব পদে নিয়োগ বা পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে ২০ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিখন কার্যক্রমে। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানও নিম্নমুখী হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা পাচ্ছে না। মৌলিক দক্ষতার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষকসংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তবে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে রিসোর্স পুল গঠনের উদ্যোগ ইতিবাচক পদক্ষেপ।

বিনা খরচে যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট বৃত্তির সুযোগ

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলনে উত্তপ্ত পবিপ্রবি ক্যাম্পাস, অবস্থান কর্মসূচি

জানুয়ারির শেষে এসএসসি ও জুনে এইচএসসির আলোচনা: শিক্ষামন্ত্রী

তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহিন, সম্পাদক ইমরান

‎এসএসসি পাস করতে যেন স্কুলিং ১০ বছরেই থাকে: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানোর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

রোমানিয়া: বুকারেস্ট সামার স্কুলে অংশ নেওয়ার সুযোগ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ২৩ দিনের টানা ছুটি আসছে

শিক্ষার্থীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার মনস্তাত্ত্বিক কৌশল

পাঠ্যবইয়ে বদল: সরকার আসে, পড়া বদলায়